স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: বন্যা পরিস্থিতির জেরে বিপর্যস্ত রেল পরিষেবা৷ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগও। ফলে মালদহ টাউন স্টেশনে গত তিনদিন ধরে আশ্রয় নিয়েছেন পাঁচ শতাধিক যাত্রী। স্টেশনে আটকে থাকলেও মিলছে না পর্যাপ্ত খাওয়ার। এমনকী, শৌচকর্ম করতেও গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ স্টেশনে বিক্ষোভ দেখালেন যাত্রীদের একাংশ। এমনকী, স্টেশন ম্যানেজারকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। যার জেরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মালদহ টাউন স্টেশনে। পরে রেল পুলিশ, নিরাপত্তা রক্ষীরা গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। একই সঙ্গে যাত্রীদের বিনামূল্যে শৌচগার ব্যবহারের অনুমতি দেন স্টেশন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মালদহ টাউন স্টেশনের ম্যানেজার হরে কৃষ্ণ সিংহ।

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের তরফে যাত্রীদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। মেডিক্যাল টিমও রয়েছে অসুস্থ রেলযাত্রীদের সুবিধের জন্য। তবে মানুষের প্রয়োজন খাওয়ার। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এগিয়ে আসলে যাত্রীদের সুবিধে হবে।’’ ট্রেন, বাস না পেয়ে দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে সমস্যায় পড়েছেন অসম, গুহাটি, কোচবিহার, জলপাই গুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও শিলিগুড়ির বাসিন্দাদের। কলকাতা থেকে ট্রেনগুলি মালদহ স্টেশন পর্যন্ত আসছে। ফলে মালদহ স্টেশনে এসে বিপাকে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

গত, সোমবার অসুস্থ হয়ে অসমের বরপেটা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি ১৫ ঘণ্টা ধরে ট্রেনে আটকে ছিলেন। পরে টাউন স্টেশন সংলগ্ন শৌচাগার থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এদিনও বেশকিছু যাত্রী অসুস্থ হয়ে রয়েছেন। রেলের তরফের তাঁদের চিকিৎসা করানো হয়। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশনে একটি শৌচাগার রয়েছে। সেই শৌচাগার ব্যবহার করার জন্য ১৫টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অন্যান্য দিনের থেকে বাড়তি দশ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দিনের পর দিন স্টেশনে থাকার ফলে টাকার ঘাটতি হচ্ছে বলে দাবি যাত্রীদের। তাই এদিন ঘণ্টাখানেক ধরে বিক্ষোভ দেখান যাত্রীরা৷ রেলের তরফে পর্যপ্ত খাবার দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রেল যাত্রীদের৷ যা খেয়ে শিশুদেরও পেট ভরছে না৷

এদিন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষ স্টেশনে গিয়ে শুকনো খাওয়ার, জল দেন অসহায় যাত্রীদের। জেলা শাসক কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এদিনও আমাদের বাস চালানো হচ্ছে। যতটা সম্ভব যাত্রীদের ঘুরপথে গন্তব্যে শিলিগুড়িতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলছে।’’