সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়:  গান্ধীজির সঙ্গে যেমন বিড়লা-সহ আরও কিছু ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল, তেমনই মহম্মদ আলি জিন্নার সঙ্গেও ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কিছু ব্যবসায়ীর যোগাযোগ৷ আর তাঁরাও নিজেদের স্বার্থেই দেশভাগ চেয়েছিলেন৷ আসলে সেই সময় বিড়লা-গোয়েঙ্কা-বাজাজ-খৈতানদের মতো হিন্দুর পাশাপাশি ইসপাহানি, স্যার রফিউদ্দিন আদামজী, স্যার আবদুল্লা হারুন প্রমুখ মুসলমান ব্যবসায়ীরা একটা স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠেছিলেন৷

প্রচলিত ধারণা, পাকিস্তান দাবি ছিল মূলত পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের৷ হিন্দুদের সম্ভাব্য শাসন এবং শোষণ থেকে মুক্তির জন্য তাঁরা এই দাবি তুলেছিলেন৷ কিন্তু এই ধারণা কতটা সঠিক, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন৷ কারণ হিন্দু চাষি মজুর এবং মুসলমান চাষি মজুরের স্বার্থগত দিক থেকে বিরোধ আদৌ ছিল না৷ তারা চিরকালই বড় বা ক্ষমতাবান মানুষদের বোড়ে হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে এসেছেন৷ ধর্ম নির্বিশেষে জমিদার পুঁজিপতিদের দ্বারা এঁরা শাসিত ও শোষিত যেমন হন, তেমনই আবার তাঁদের স্বার্থরক্ষার্থে এঁদের বারবার ব্যবহার করা হয়ে থাকে৷ এ ক্ষেত্রেও তেমনটা হয়নি, হলফ করে বলা উচিত নয়৷ বিশেষত উপরতলার বিরোধ একটা ছিলই৷

অবিভক্ত ভারতে, বিশেষত কংগ্রেসে বিড়লা তথা মাড়োয়ারিদের যেমন প্রভাব ছিল, তেমনই এই ইসপাহানিদের প্রভাব ছিল মুসলিম লীগে৷ তা ছাড়া, বিড়লা পরিবার শুধু যে মহাত্মা গান্ধী এবং কংগ্রেসের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এমন নয়। লালা লাজপত রাই, মদনমোহন মালব্য এবং হিন্দু মহাসভার পৃষ্ঠপোষকতা করতেন৷ ফলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি রীতিমতো সমর্থন দিতে দেখা গিয়েছে এই ব্যবসায়ী পরিবারের প্রতিনিধিদের৷

আবার এলাহাবাদ থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক The Leader বিড়লাদের সাহায্যেই চলত৷ পত্রিকাটি চালাতেন মদনমোহন মালব্য৷ তা ছাড়া লালা লাজপত রাই, মদনমোহন মালব্যের দল ইন্ডিপেনডেন্ট কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯২৬ সালে কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচনে জয়ী হন জিডি বিড়লা স্বয়ং৷ মতিলাল নেহরুর সঙ্গে মতভেদের দরুণ লালা লাজপত রাইয়ের নেতৃত্বে ওই পার্টির জন্ম হয়েছিল৷ তেমনই জিন্নার অনুগত বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ছিল ইসপাহানিরা৷ এই ইসপাহানিদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা নিয়েই জিন্নার প্রতিষ্ঠিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ডন’ চালু হওয়ার কিছু দিন বাদে দৈনিকে পরিণত হয়৷

হিন্দু ও পার্সিদের তুলনায় মুসলমান ব্যবসায়ীরা অনেকটা দুর্বল ছিলেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ এম.এ এইচ ইসপাহানির মতে, ব্যবসা ও শিল্পে বলা চলে একচেটিয় অধিকার ছিল হিন্দু ও ব্রিটিশ বণিকদের৷ মুষ্ঠিমেয় কিছু মুসলিম শিল্পপতি ছিলেন৷ তাঁর লেখায় মুসলিম ব্যবসায়ীরা কতটা পিছিয়ে, তার ফিরিস্তি পাওয়া যায়৷ তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান সৃষ্টির পরে ভারতের টাটা-বিড়লার মতো সমকক্ষ হতে পেরেছিলেন বেশ কিছু পাকিস্তানি শিল্পপতি৷ অবিভক্ত ভারতে এঁরা ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত হলেও পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে বড় শিল্পপতি হয়ে উঠেছিলেন৷

মুসলিমরা যে পৃথক সংগঠনে তাঁদের নিজেদের রাখতে চাইছেন, তা গত শতাব্দীর বিশ-তিরিশের দশক থেকেই দেখা গিয়েছে ৷ বিশেষত ১৯২৮ সালের ‘নেহরু সংবিধান’ তাঁদের আতঙ্কিত করেছিল৷ এর ফলে ১৯৩২ সালে কলকাতা ও অন্যত্র মুসলিম চেম্বার অফ কমার্স গঠনের করতে দেখা যায়৷ তখন মাড়ওয়াড়ি-গুজরাতি-পার্সিদের সঙ্গে পেরে ওঠা যে কঠিন, সেটা তাঁরা নিজেরাও অনুভব করতেন৷ আবার এটাও ঘটনা, মূলত ঘনশ্যাম দাস বিড়লা এবং পুরুষোত্তমদাস ঠাকুরদাসের উদ্যোগে ১৯২৭ সালে গড়ে উঠেছিল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স। কিন্তু ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ২১ বছরে মাত্র দুজন মুসলমান এই বণিকসভার সভাপতি হয়েছিলেন৷

১৯৩০-এর দশক থেকেই মাড়ওয়ারি ব্যবসাদারদের সঙ্গে হিন্দু মহাসভার যোগাযোগ বাড়তে থাকে৷ কারণ ওই দশক থেকেই ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু-র মতো সমাজবাদী মনস্ক নেতাদেরর উত্থান ঘটতে শুরু করে৷ এই সময় পদ্মনাথ জৈন নামে এক মাড়ওয়ারি বাংলায় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সম্পাদক হন৷ ১৯৩৯ সালে কলকাতায় বিনায়ক দামোদর সাভারকরের সভাপতিত্বে ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর সারা ভারত হিন্দু মহাসভার বার্ষিক অধিবেশন হয়৷ সেই সময় বাংলায় হিন্দু মহাসভার নেতৃত্বে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যিনি কিছু দিনের মধ্যেই সর্বভারতীয় সভাপতি হন৷ ওই সময় ঘনশ্যামদাসের বড় ভাই যুগলকিশোর বিড়লা, বদ্রিদাস গোয়েঙ্কা, বংশীধর জালান কানোরিয়া, খৈতান প্রমুখ মাড়ওয়ারি ব্যবসায়ী কলকাতায় মহাসভার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন৷ তখন মাড়ওয়ারি ব্যবসায়ীদের এই পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বঞ্চিত হয়নি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-ও (আরএসএস)৷ কলকাতায় বিড়লাদের শিল্প বিদ্যালয়ে এদের কার্যালয় ছিল৷

তা ছাড়া, অবিভক্ত বঙ্গে ১৯৩৭ সালে প্রথম নির্বাচনে কংগ্রেস একক বৃহত্তর দল হলেও কারও সঙ্গে জোট করতে চায়নি৷ ফলে কৃষক প্রজা পার্টি এবং বেশ কিছু নির্দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছিল মুসলিম লিগ৷ এ দিকে, ১৯৩৮ সালে অসমে কংগ্রেসকে সংযুক্ত মন্ত্রিসভা গঠন করতে দেখে বাংলাতেও তেমন ভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করতে চেয়েছিলেন সুভাষ বোস। কারণ তাঁর মনে হয়েছিল, সাম্প্রদায়িকতার তরঙ্গ রোধে এটাই উপায়৷ প্রথমে সে প্রস্তাব গান্ধীজি-প্যাটেলরা মেনেও নেন, কিন্তু পরে ঘনশ্যামদাস বিড়লার প্রভাবে বাদ সাধেন গান্ধীজি৷ কারণ বিড়লা তাঁকে বুঝিয়ে ছিলেন, এমনটা করলে বাংলায় কংগ্রেসে ভাঙন ধরতে পারে৷ তিনি যে আর ওই সময় বাংলার মন্ত্রিসভাকে উচ্ছেদ করতে রাজি নন, সেই বার্তা দিয়ে চিঠি দেন এবং সেই চিঠি বিড়লার মাধ্যমেই সুভাষের কাছে এসে পৌঁছয়৷ সেই সময় সুভাষ কংগ্রেসের সভাপতি। অথচ এমন সিদ্ধান্তের আগে গান্ধীজি তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা না করায় বিস্মিত হন৷

এই প্রসঙ্গে নীরদ সি চৌধুরীর (যিনি সুভাষচন্দ্রের দাদা শরৎ বোসের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং সুভাষকেও চিঠিপত্রের বিষয়ে সহায়তা করতেন) অভিমত, বাংলায় হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য যাতে দানা না বাঁধতে পারে, সেটাই বিড়লার উদ্দেশ্য ছিল৷ মুসলিম লিগের মন্ত্রিসভাকে সমর্থন করে বিড়লা চেয়েছিলেন, বাংলার হিন্দু-মুসলমানের মধ্যেকার ঐক্য নষ্ট করতে৷ অর্থনৈতিক আধিপত্যের কথা চিন্তা করেই একেবারে ইংরেজদের কৌশল মারোয়ারিরা গ্রহণ করেছিল সেই সময়।

১৯৩৬ সাল পর্যন্ত মুসলিম লিগের সংগঠন তেমন জোরদার ছিল না৷ সদস্য সংখ্যা তুলনায় বেশ কম ছিল, মাত্র কয়েক হাজার৷ কিন্তু ১৯৩৭ সালে সংযুক্ত মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব কংগ্রেস প্রত্যাখ্যান করলে এবং জিন্না কংগ্রেসকে চরম শত্রু ধরে নিয়ে একেবারে উঠে পড়ে বিরোধিতায় নামলে এদের সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে ৷ দেখা যায় ১৯৪০ নাগাদ সদস্য সংখ্যা পাঁচ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে৷ তখন এই লিগ সংগঠনটি গড়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু মুসলমান ব্যবসায়ী শিল্পপতি সক্রিয় ভূমিকা নেন৷ ১৯৪৩-এ দুর্ভিক্ষ যখন চরমে ওঠে, সেই সময় জিন্না ঘনিষ্ঠ ইসপাহানিদের কোম্পানিকেই বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার ধান-চাল কেনার একচেটিয়া অধিকার দেওয়া হয়৷ তখন এদের কোম্পানি অনেক মুনাফা লুটে ছিল বলেই কুখ্যাতি রয়েছে৷

১৯৩৮ সালের জুনে মুসলিম লিগের যে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছিল, তাতে বম্বের অন্যতম বড় মিল মালিক গোষ্ঠীর স্যার করিম ভাই ইব্রাহিম ও করাচির স্যার আবদুল্লা হারুন ছিলেন৷ ১৯৪১ সালে এমএ এইচ ইসপাহানি লিগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েছিলেন৷ গত শতকের ত্রিশের দশকে মির্জা আবুল হাসান ইসপাহানি পারিবারিক ব্যবসায় নজর দেওয়ার বদলে সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ১৯৩৬-৩৭ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লিগের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এর কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৪১-৪২ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ ও ১৯৪৬ সালে তিনি পরপর বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

তাঁর মতোই মুসলিম লিগের সদস্য হিসেবে আইনসভার সদস্য হয়েছিলেন বোম্বাইয়ের ইব্রাহিম রহিমতুল্লা৷ মির্জা আবুল হাসান ইসপাহানি ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতার মুসলিম চেম্বার্স অব কমার্সের সভাপতি ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সফররত ভারতীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবুল হাসান ইসপাহানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন এবং ১৯৫২ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। ইসপাহানি গোষ্ঠীর ব্যবসার কেন্দ্র ছিল কলকাতা। তবে ১৯৪৭ সালের পরে ইসপাহানি পরিবারের কর্পোরেট হেড অফিস পূর্ববাংলার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত করা হয়।
আবার ১৯৪৬ সালে এমএএইচ ইসপাহানির কাছে তৎকালীন বাংলার গভর্নর আর জি কেসি জানতে চেয়েছিলেন যে, মুসলিম লিগ পাকিস্তান পাওয়ার সংকল্পে দৃঢ় কিনা৷ জবাবে ইসপাহানি জানান, তিনি বিষয়টিকে অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখেন৷

তাঁর যুক্তি ছিল, প্রশাসনিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মুসলমানদের সুবিধা পাওয়া দরকার৷ এ দিকে আবার ১৯৪৬ সালে মুসলিম লিগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলি খান তৎকালীন ভাইসরয়ের এক কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সদস্যের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, যত দিন ভারতের কোনও জায়গা মাড়ওয়ারি এবং এবং অন্যান্য হিন্দু পুঁজিপতিদের দৃঢ় অর্থনৈতিক কব্জায় থাকবে, তত দিন মুসলমানদের উন্নতি সম্ভব নয়৷

১৯৪৪ সালে দু’টি অংশে ১৫ বছরের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ( A Brief Memorandum outlining a plan of Economic Development for India) করা হয়, যা সাধারণত বোম্বাই পরিকল্পনা নামেই পরিচিত৷ তাতে প্রকাশিত আটজন রচয়িতা ছিলেন পুরুষোত্তমদাস ঠাকুর দাস, জেআরডি টাটা, জিডি বিড়লা প্রমুখ ভারতের আটজন হিন্দু ও পার্শি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী শিল্পপতি৷ কিন্তু ওই তালিকায় কোনও মুসলিম ব্যবসায়ী শিল্পপতি ছিলেন না৷ তবে মুসলিম লিগ ১৯৪৪ সালে নিজস্ব প্ল্যানিং কমিটি গঠন করেছিল৷ তা ছাড়া জিন্নার নির্দেশে এবং ইসপাহানির উদ্যোগে ১৯৪৪ সালে ফেডারেশন অফ মুসলিম চেম্বার অফ কমার্স গঠন করা হয়েছিল৷ তা ছাড়া টাকা সংগ্রহের জন্য স্যার হাজি আদমজি দাউদের নেতৃত্বে মুসলমান ব্যবসায়ীদের একটি অর্থনৈতিক কমিটি গঠন করা হয়৷ তার কোষাধ্যক্ষ ছিলেন মির্জা আহমেদ ইসপাহানি ৷

১৯৪৭ সালের ৩ জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার ঠিক পরেই, ৫ জুন বিএম বিড়লা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন৷ দেশভাগজনিত কারণে যখন বহু বাঙালি দুর্ভাবনা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন রীতি মতো খুশি হয়ে উঠেছিল এই মাড়ওয়ারি গোষ্ঠী৷ সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের আইনসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য বিএম বিড়লা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কাছে অনুরোধ জানান৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হিন্দু মহাসভার সভাপতি ছিলেন ঠিকই, তবে আবার কংগ্রেসের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হননি৷ সে কারণেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কাছে বিএম বিড়লা ওই অনুরোধ জানাতে পেরেছিলেন৷

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার পর যখন প্রথম মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়, সেই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু প্রথমে শ্যামাপ্রসাদকে তাঁর মন্ত্রিসভায় নিতে রাজি হননি৷ মহাত্মা গান্ধীর নির্দেশ এবং সর্দার প্যাটেলের আরজিতে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হন ৷ অতঃপর শ্যামাপ্রসাদ হন স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী৷

তথ্যঋণ: বাংলা বিভাজনের অর্থনীতি- রাজনীতি: সুনীতিকুমার ঘোষ এবংইন্টারনেট

----
--