পরাধীনতার অপর নাম সেন্সর বোর্ড!

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : সেন্সরের কাঁচি চালানোর কোনও পদ্ধতি নেই। এমনটাই দাবি করছেন ‘দেখ কেমন লাগে’ ছবির ডিরেক্টর ডুয়ো সুদেষ্ণা রায় ও অভিজিৎ গুহ। সিনেমা জগতে সেন্সর কথাটা শুনলেই এখন একটা অজানা ভয় জাগছে পরিচালক থেকে প্রযোজক প্রত্যেকের মধ্যে। সেন্সরের এই অজানা ভয়ে মন খুলে কাজ করার জায়গাটাই ছোট হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। একটি ফ্যাশন সংস্থার ক্যলেন্ডার লঞ্চের অনুষ্ঠানে এসে পরিচালকদ্বয় কথায় ফুটে উঠল সেই অভিব্যক্তই।

শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে সুদেষ্ণা রায় ও অভিজিৎ গুহর নতুন ছবি ‘দেখ কেমন লাগে’। কমেডি ধারার এই ছবির একটি গান নিয়েই সেন্সরের কাঁচির খোঁচা খেতে হয়েছে ছবিকে। সেন্সরের না পসন্দ ছিল ছবির একটি গানের লাইনে ব্যবহৃত ‘রাধা’ শব্দটি। বিখ্যাত লোকসঙ্গীতের অবলম্বনে তৈরি হওয়া এই গানের লাইনটি ছিল ‘হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হল, রাধা কবে আসবে বলো’। এই রাধার আগমনেই বাধ সেধেছে পেহলাজ নিহালনি’র সেন্সর বোর্ড।

- Advertisement -

সেন্সরের বক্তব্য অনুযায়ী ‘রাধা’কে ব্যাঙ্গ করা হচ্ছে। তাঁরা এই গানের মাধ্যমে ছবির একটা অন্যরকম মুহূর্ত তুলে ধরতে চেয়েছেন সেটা বুঝতেই চায়নি সেন্সর বোর্ড। এখানেই বেশ বিরক্ত ছবির পরিচালক সুদেষ্ণা রায়।  Kolkata24x7-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পরিচালক বলেন, “সিনেমার ক্ষেত্রে এত সেন্সর বোর্ডের কচকচানি থাকলে কি করে মন খুলে কাজ করব বুঝতে পারছি না। সেন্সরের কখন কিসের উপর যে কাঁচি চালাবে সেটা আমরা বুঝতে পারি না। ওদের কতগুলো কোড অফ কন্ডাক্ট আছে সেই অনুযায়ী হয়তো ওনারা চলেন। কিন্তু সেই বিষয়টা আমাদের কারোর কাছেই পরিস্কার নয়।”

সম্প্রতি সুমন ঘোষ পরিচালিত অমর্ত্য সেনকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রে গরু, হিন্দুত্ব, এই সব শব্দ বাতিলের খাতায় পড়েছিল সেন্সর বোর্ডের। শব্দ গুলি বন্ধ করতে চাননি পরিচালক। তাই মুক্তি নিয়েও তাকে সহ্য করতে হচ্ছে সমস্যা। মুক্তির এমন সমস্যার জন্য ভয় পাচ্ছেন পরিচালকরা। কিছু করতে গেলে মাথায় অনেক ভাবনা কাজ করে এখন। সুদেষ্ণা রায়ের কথায়, “একটা ছবির পিছনে প্রয়োজকের অনেক গুলো টাকা খরচ হয়। সেখানে একটা ছবি যদি মুক্তি না পায় তাহলে সেটা তাঁর ক্ষতি। সেটা আমরা চাইনা।” তাই না চেয়েও বাদ দিতে হয়েছে প্রচলিত লোকসঙ্গীতের ওই লাইন।

ছবির অপর পরিচালক অভিজিৎ গুহ বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “সেন্সর এই সমস্যা নতুন নয়। ২০০৪ সালেও আমাদেরই ছবি ‘তিন ইয়ারি কথা’ সেই সেন্সরের চাপেই মুক্তি পায়নি। সাত মাস অপেক্ষার পর অনেক কাঠ খর পুড়িয়ে সেন্সরের ‘A’ সার্টিফিকেট পেয়েছিলাম।” অভিজিৎ গুহ’র কথায়, “তখন হাতে সময় ছিল বলে সমস্যাটা এতো গায়ে লাগেনি। কিন্তু এখন কাজ অনেক দ্রুত হয়। ছবির স্যুটিং চলাকালীন ছবি মুক্তির দিন স্থির হয়ে যায়। তাই অনেক জিনিষে ওঁদের যুক্তি না থাকলেও আমাদের মেনে নিতে হয়।”

কোনও টেলিভিশন ধারাবাহিক বা কোনও থিয়েটারের ক্ষেত্রে কোনও সেন্সর থাকে না। সেখানে মনের ভাব সঠিক ভাবে প্রকাশ করা যায়। একটা সিনেমার ক্ষেত্রে এত সেন্সর বোর্ডের কচকচানি থাকলে কি করে মন খুলে কাজ করবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দুই পরিচালকই।
সিনেমা, বলা হয় সমাজের দর্পণ। সেখানে সমাজের ছবিটাই মানুষের সামনে তুলে ধরতে গিয়ে এত কাটছাঁট। তাই সেন্সরশিপের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এবং তার পাশে একটা বড় প্রশ্ন থেকেই গেল।

Advertisement
---