‘বাধ্য হয়ে’ পাশাপাশি বসে মোদীর ভাষণ শুনলেন অমিত-রাহুল

নয়াদিল্লি: এবারের ছবিটা বেশ অচেনা ছিল৷ হয়ত প্রথমবার ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ছে বলে৷ তবে বুধবারই ছবিটা নজর কেড়েছিল সবার৷ স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার অনুষ্ঠানে পাশাপাশি বসে রয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ একসাথে বসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ শুনলেন তাঁরা৷

নিন্দুকের দাবি বাধ্য হয়েই অমিত শাহের পাশে বসতে হয়েছে কংগ্রেস সভাপতিকে৷ যেটা তাঁর কাছে মোটের স্বস্তিদায়ক ছিল না৷ তবে সত্যিটা অন্য জায়গায়৷ গল্পটাও ভিন্ন৷ এতদিন বিজেপি সভাপতির পাশে জায়গা ছিল কংগ্রেস সভানেত্রীর৷ অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে পদাধিকার বলে বসতেন শাসক দলের সভাপতি, তার পাশেই জায়গা হত বিরোধী দলের সভাপতির৷ কোনও বিরোধ ছিল না৷ এতদিনের চেনা ছবিটা তাই ছিল কংগ্রেস সভানেত্রীকে ঘিরে৷ বিজেপি সভাপতির পাশে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে দেখেই অভ্যস্ত ছিলেন সাধারণ মানুষ৷ এবার সোনিয়া গান্ধীর জায়গায় প্রথম বার বসলেন রাহুল গান্ধী৷

- Advertisement -

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সোনিয়াকে দেখে অভ্যস্ত মানুষ এবার রাহুলকে দেখে একটু চমকালেন বইকী৷ তবে ক্ষমতার বদলে সোনিয়ার জায়গায় এসেছেন রাহুল৷ তাই বিরোধী দলের সভাপতি হিসেবে শাসক দলের সভাপতির পাশে বসাটা আশ্চর্যের নয়৷ তবে প্রথমবার বলে সবারই হয়তো চোখে পড়েছে এই বদল৷

এতদিনের চেনা ছবিটা ছিল, প্রথম সারিতে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী আর ছয় নম্বর সারিতে রাহুল গান্ধী৷ এমনকী চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসেও এই একই ছবি দেখা গিয়েছিল৷ রাহুল গান্ধীর সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ছিলেন কংগ্রেসের বহু নেতা৷ এর মধ্যে রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ ছিলেন দ্বিতীয় সারিতে৷ তৃতীয় সারিতে বসেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷

তবে এই বসার আয়োজন নিয়ে একটা বিতর্ক তৈরি হয় প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে৷ চতুর্থ সারিতে বসার কথা থাকলেও, রাহুল গান্ধীকে সেসময় বসানো হয়েছিল ষষ্ঠ সারিতে৷ এনিয়ে রাহুল কোনও কথা না বললেও, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অপমানের অভিযোগ তোলা হয়৷ এই নিয়ে পরে দুদলের বাগবিতন্ডাও চলে৷ যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি৷

Advertisement ---
---
-----