ফ্লাশিং মেডোয় সেমি ফাইনালে চার মার্কিনি

নিউইয়র্ক: আমেরিকান মহিলা টেনিসের কি সোনার সুগ আবার ফেরত আসছে? বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালের পর এই প্রশ্নটাই ঘোরাফেরা করছে টেনিস মহলে৷ ১৯৮১ পর প্রথমবার মহিলা সিঙ্গলসে চার মহিলাই মার্কিনি৷ তাই কাপ যে আবার দেশেই ফিরছে সে’ব্যাপারে নিশ্চিত দর্শকরা৷

আরও পড়ুন: জীবনের ৪৭-তম খেতাব ভেনাসের

প্রায় চারদশক আগে চার মার্কিনি মেয়ে ইউএস ওপেনের সেমি ফাইনালে উঠে চমকে দিয়ে ছিলেন টেনিস বিশ্বকে৷ ক্রিস এভার্ট,মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা,ট্রেসি অস্টিন,বারবারা পোর্টার ছিল সেই নামের তালিকায়৷ শেষ পর্যন্ত নাভ্রাতিলোভাকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন অস্টিনই৷ মার্কিন টেনিসের সেই কৃতিত্ব আবার ফিরিয়ে আনলেন ভেনাস উইলিয়ামস,ম্যাডিসন কিজ,কোকো ভ্যান্ডেওয়েগে ও সোলানে স্টিফেন্স৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: ফ্লাশিং মেডোয় দু’দশকের স্মৃতিচারণায় ভেনাস

২০০০ ও ২০০১ টানা দুবার ইউএস ওপেন জিতেছিলেন ভেনাস৷ এরপর বোন সেরেনার আড়ালে চাপা পড়ে যান তিনি৷ এবারে সেরেনা না থাকায় তাঁর সামনে সুযোগ তৃতীয় ইউএস ওপেন জয়ের৷ ১৫ নম্বর বাছাই ম্যাডিসন কিজ এস্তোনিয়ার কাইয়া কানেপি স্ট্রেট সেটে(৬-৩,৬-৪) হারিয়েই শেষ চারে উঠেছেন৷ এই ম্যাচ জেতার পর তিনি বলেন,‘ দারুণ লাগছে৷ এটা বিশেষ মুহূর্ত৷ তবে এত সহজে ম্যাচ জিতব ভাবিনি৷

আরও পড়ুন: ভেনাসকে সমর্থন করতে বলছেন সেরেনা

অস্ট্রেলিয়া ওপেন জয়ের পরই জানা যায় সেরেনা গর্ভবতী৷ এরপরই সার্কিট থেকে সাময়িকবাবে সরে দাঁড়ান ২৩ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিজয়ী৷ সেরেনার অনুপস্থিতে উইলিয়ামস পরিবারের মযার্দা রক্ষার দায়িত্ব ছিল ভেনাসের উপর৷ সেই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি৷ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ জেতার পর বিশ্বের প্রাক্তন এক নম্বর বলেন,‘ এই দুই সপ্তাহ বেশ ভালোই কাটল৷ চারজন আমেরিকান মহিলা সেমিফাইনালে৷ আমাদের দেশের টেনিসের পক্ষে এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে৷’

আরও পড়ুন: প্রথমবারের জন্য অস্ট্রেলিয়া ওপেনের সেমিতে ভেনাস

২০০২ পর এই প্রথম অল-আমেরিকান ফাইনালও দেখতে চলেছে ফ্লাশিং মেডো৷ ১৫ বছর আগে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিলেন ভেনাস-সেরেনা৷ সেই ম্যাচে বাজি মেরেছিলেন সেরেনাই৷ এরপরই শুরু হয়েছিল সেরেনা যুগ৷

আরও পড়ুন: দেল পোর্তো ‘কাঁটায়’ বিদ্ধ ফেডেরার

অন্যদিকে পুরুষদের সিঙ্গলসে বড় সড় অঘটন ঘটিয়েছেন আর্জেন্তিনার হুয়ান মার্টিন দেল পোর্তো৷ আর্জেন্তিনার তারকার ৫-৭, ৬-৩, ৬-৬ (১০-৮), ৬-৪ সেটে হেরে গেলেন ‘ফেডএক্স’৷ এদিন ওপেনিং সেট থেকেই ফেডেরারকে ছন্দহীন লাগছিল৷ প্রথম সেট ৭-৫ জিতে নেওয়ার পরই ইন্দ্রপতনের আশঙ্কা করছিলেন অনেকে৷ তাদের সেই আশঙ্কাই যে সত্যি হবে কে জানতো! দ্বিতীয় সেটে ম্যাচে ফেরেন সুইস মায়েস্ত্রো৷ কিন্ত ‘ঘরের কোর্টে’ খেলা দেল পোর্তো এদিন বেশিই উজ্জীবিত ছিলেন৷ তৃতীয় সেট ট্রাইবেকারে যাওয়ার পর যেভাবে ম্যাচ বের করলেন তা এককথায় অনবদ্য৷ চতুর্থ সেটেও সমানে সমানে লড়াই চলছিল দুই তারকার৷ পাঁচ নম্বর গেমে ফেডেরারের সার্ভিস ব্রেক করেন দেল পোর্তো৷ সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি সুইস মহাতারকা৷

ফেডেরার হেরে গেলেও স্ট্রেট সেটে(৬-১,৬-২,৬-২) জয় পয়েছেন নাদাল৷ বছর ১৯ আন্দ্রে রুবলভকে হারাতে খুব একটা কসরত করতে হয়নি বিশ্বের এক নম্বরকে৷ এক ঘন্টা ৩৬ মিনিটেই রুশ প্রতিদ্বন্দীকে উড়িয়ে দেন স্প্যানিশ মহাতারকা৷

Advertisement
---