স্কুলের ‘সম্মান’ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের কোপে ধর্ষিতা ছাত্রী

লাতুর: রক্ষকই ভক্ষক! নাকি উলটপুরাণ!

এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সেনা জওয়ানের কাছে ধর্ষিতার শিকার হলেন এক নাবালিকা৷ ওই ঘটনায় ধর্ষিতার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে তাঁকেই স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে৷ এমনকি থানাতে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশও মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করে বলে অভিযোগ৷

ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার৷ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ প্রশ্নের মুখে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে স্থানীয় থানার পুলিশ৷ তবে বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়তেই নড়ে চড়ে বসেছে পুলিশের কর্তারা৷ অভিযুক্ত জওয়ানের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে শুরু হয়েছে তদন্ত৷

- Advertisement -

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লাতুর জেলার বছর পনেরোর ওই নাবালিকা গত এপ্রিলে এক সেনা জওয়ানের লালসার শিকার হন৷ নাবালিকার অভিযোগ, স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে৷ বরং থানার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, অভিযোগ জানাতে ৫০ হাজার টাকা লাগবে৷ এদিকে পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের ছাত্রী ধর্ষিতা হয়েছে শুনে তার পাশে দাঁড়ানোর পরবর্তে তাঁকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ৷

নাবালিকার অভিযোগ, ‘‘আমি স্কুলে পড়লে নাকি স্কুলের সম্মান হানি হবে৷ তাই আমাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু আমি এখানে পড়াশোনা করতে চাই৷’’ সংশ্লিষ্ট স্কুলের অধ্যক্ষ এফ এ মুদরে অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, ‘‘মেয়েটি দু’মাস স্কুলে অনুপস্থিত ছিল৷ পরে ওর পরিবার থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট চেয়েছিল৷ আমরা সেটা দিয়েছি৷ স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যে৷’’

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অভিযুক্ত জওয়ানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্কুল ও স্থানীয় থানার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে৷ বিষয়টি জানতে পারার পর লাতুর জেলার পুলিশ সুপার শিবাজি রাঠোরের নির্দেশে শুরু হয়েছে তদন্ত৷ এফআইআর রুজু হয়েছে সংশ্লিষ্ট জওয়ানের বিরুদ্ধেও৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জওয়ানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ ও থানার বিরুদ্ধেও তদন্ত করে দোষিদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে৷ পুলিশের কর্তাদের আশ্বাস, তদন্ত শুরু হয়েছে৷ দোষিদের কেউ রেহাই পাবে না৷

Advertisement ---
-----