ম্যালেরিয়া মুক্ত দেশের লক্ষ্যে মমতাকে পিছনে ফেলে দিলেন মোদী

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পিছনে ফেলে দিলেন এ বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! কারণ, ২০৩০-এর মধ্যে দেশকে ম্যালেরিয়া মুক্ত করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ তার জন্য জাতীয় কর্মসূচিও তৈরি হয়েছে৷ অথচ, ২৫ এপ্রিল, খোদ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসেই নির্বিকার থেকে গেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷

আরও পড়ুন: মমতার আইনের বিরুদ্ধে আইএমএ-র সংঘাত, ব্যবস্থা নেবে ডিসিপ্লিনারি কমিটি

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ দিন যেখানে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে৷ সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে তেমন কোনও উদ্যোগের দেখা মেলেনি৷ বরং, উত্তরবঙ্গের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উন্নয়ন’ কর্মসূচির অধীনে একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস এবং পরিষেবা প্রদানের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ দিন বহু বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে কোনও কোনও খবরের কাগজে৷

- Advertisement -

আর, তার জেরেই, বিভিন্ন মহলে উঠছে এখন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন৷ ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি সহ মশা এবং পতঙ্গবাহিত অন্য বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য যেখানে বছরভর কর্মসূচির কথা বলা হয়, সেখানে কেন বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসেই নির্বিকার হয়ে রইল মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকা স্বাস্থ্য দফতর? সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনও নয়৷ বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসকে কেন্দ্র করে, সাধারণ মানুষের মধ্যে জোরদার সচেতনার লক্ষ্যেও এ দিন রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কোনও কর্মসূচির দেখাও মেলেনি৷

আরও পড়ুন: মমতার আইনের বিরুদ্ধে ২৭ এপ্রিল দেশ জুড়ে ডাক্তারদের কালো দিন

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসে কেন এমন নির্বিকার হয়ে রইল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর? এই বিষয়ে জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী শশী পাঁজাকে ফোন করা হয়৷ তবে, তিনি ফোন না ধরায়, তাঁর কোনও বক্তব্য মেলেনি৷ যোগাযোগ করা হয় রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথীর সঙ্গে৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে তাঁকে ফোন করা হয়৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা পরে ফোন করতে বলেন৷ কিন্তু, পরে ফোন করা হলে, তিনি কেটে দেন৷ যে কারণে, তাঁরও কোনও বক্তব্য মেলেনি৷

তবে, এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ডাক্তারদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ডাক্তার সজল বিশ্বাস বলেন, ‘‘বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কোনও কর্মসূচি দেখা যায়নি৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘মশার বংশবিস্তার রোধের কাজ সেভাবে হচ্ছে না৷ তার জন্য ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি সহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ আরও বেড়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে৷’’ ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও সচেতনা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি৷

আরও পড়ুন: নেতাদের জন্য মহাত্মা গান্ধী, ডাক্তারদের জন্য বিধানচন্দ্র রায়!

খবরের কাগজে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ওই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ম্যালেরিয়াকে শেষ করুন ভালোর জন্য’৷ কোনও সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবেন তিনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন কি না৷ তখন কী করতে হবে৷ কীভাবে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করা যেতে পারে৷ তার জন্য কী কী করণীয়৷ এমনই বিভিন্ন বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে ওই বিজ্ঞাপনে৷ অথচ, এ দিনের বিভিন্ন খবরে কাগজে প্রকাশ পেয়েছে উত্তরবঙ্গে রাজ্য সরকারের ‘উন্নয়নে’ কর্মসূচির বহু বিজ্ঞাপন৷

আর, এমনই কারণে প্রশ্ন উঠছে এখন বিভিন্ন মহলে, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি সহ মশা এবং পতঙ্গবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য যেখানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগকে তৎপর হওয়ার কথা বলেছেন, সেখানে এ দিন কেন এমন নির্বিকার হয়ে রইল তাঁরই অধীনে থাকা রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর? এমন প্রশ্নও উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর ‘উন্নয়নে’র কর্মসূচির বাইরেই কি তা হলে রয়েছে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের কাজ?

আর, এ ভাবেই, ম্যালেরিয়া মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পিছনে ফেলে দিলেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশ৷

Advertisement
----
-----