‘এনকাউন্টারে’ বাঘ না মরলে অবধারিত ছিল মানুষের মৃত্যু!

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বাঘ না মরলে মানুষ মরত! বাঘের মৃত্যুর ঘটনাকে এ ভাবেই ব্যাখ্যা করছে বন দফতর। দুই মাস ধরে বাঘ ধরতে ‘হন্যে’ হয়ে ঘুরেছে বন দফতর। বাঘ হাতে এসেছে, মৃত অবস্থায়। তবে শুক্রবারের ওই ঘটনায় বাঘ না মরলে অন্তত একজন মানুষ মারা যেত বলে দাবি করছে বন দফতর।

বাঘ মৃত্যুর ঘটনা এক প্রকার ‘এনকাউন্টার’। লালগড়ে বাঘে-মানুষে এই দুই মাসের লড়াই, সেখানে দুই পক্ষই আতঙ্কে ছিল৷ তাই, বনের ভিতরে বাঘের সঙ্গে যখনই সাধারণ মানুষের দেখা হয়েছে, তা ‘এনকাউন্টারে’র পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। কখনও জখম হয়েছে মানুষ, কখনও জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছে বাঘ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এই সংঘর্ষে বাঘের ‘হার’ হয়েছে। দারুণ ‘জয়’ ছিনিয়ে নিয়েছে মানুষ। যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষ যেমন একে অন্যের দিকে গুলি চালায়, ঠিক তেমনই ছিল শুক্রবারেরবাঘঘোরার ঘটনা। যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই এখানে যে কেউ বলি হতে পারত বলে দাবি করছে বন দফতর। হয়েছেও সেটাই।

শুক্রবার দুপুর সারে এগারোটা। বাঘ ‘রহস্যের’ যবনিকা পতন হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেদিনীপুরের বিভাগীয় কর্তা রবীন্দ্রনাথ সাহা শনিবার বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরে বাঘ ধরার চেষ্টা করেছি। প্রচুর চেষ্টা করেছি। বাঘ মৃত অবস্থায় আমাদের হাতে এসেছে বলে আমাদের কাজ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছে। কিন্তু এটা হওয়ারই ছিল। বাঘ যদি না মারা যেত, একজন মানুষ কাল মারা পরতই।” এটা কি কোনওভাবে বন দফতরের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে না ? রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “এটা আমাদের ব্যর্থতার চেয়েও মানুষের নির্বুদ্ধিতা বেশি প্রমাণ করে। আমরা বহু দিন ধরে মানুষকে মানা করেছি। পায়ে ধরে বলেছি বনে যাবেন না। কে কার কথা শোনে? মানুষের এমন যাতায়াত বিব্রত করেছে বাঘকে। বাঘ কখনও লুকিয়েছে কখনও পালটা আক্রমণ করেছে। পালটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে স্থানীয়রা।”

- Advertisement -

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “একবার ঘটনাটা ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলে একটা এনকাউন্টার ছাড়া কিছু মনে হবে না, যেখানে যে কেউ মারা যেতে পারে।” রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “ প্রশ্ন তুলতে সময় লাগে না। কিন্তু পরিস্থিতিটাও জানতে হয়, বুঝতে হয়। আমরা সেটার সঙ্গে লড়ে দিনের পর দিন আমাদের ১০০ শতাংশ দিয়ে কাজটা চালিয়ে গিয়েছি। মানুষকে আরও কত সতর্ক করব? একজন মানুষ মারা গেলেও প্রশ্ন উঠত সেই আমাদের দিকেই। কিন্তু এটা হওয়ারই ছিল। ঠিক একটা লড়াইয়ে যেমন কেউ হারে, কেউ জেতে।”

Advertisement ---
---
-----