ঋণের বোঝা ঘাড়ে বাঁচার লড়াই রিংয়ের রাজার

চণ্ডীগড়: একমাত্র ভারতীয় বক্সার, যিনি কিংবদন্তি মহম্মদ আলির বিরুদ্ধে রিংয়ে নেমেছিলেন৷ প্রদর্শনী বাউট হলেও দিল্লিতে ১৯৮০’র সেই লড়াই আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল কৌর সিংকে৷ দেশের হয়ে একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক পদক জিতেছেন৷ অর্জুন হয়েছেন৷ জুটেছে পদ্মশ্রী সম্মান৷ সময়ের স্রোতে ভেসে এখন বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গিয়েছেন ৮২ এশিয়াডের সোনাজয়ী বক্সারটি৷ দেনার দায়ে হতাশা গ্রাস করেছে কৌরকে৷ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে, ২ লক্ষ টাকার ঋণ সুদে বেড়ে আড়াই লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে৷ অথচ বুঝে উঠতে পারছেন না কিভাবে শোধ করবেন পাওনাদারের টাকা৷ ভবিষ্যতে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কোথায় বা খুঁজবেন বাঁচার রসদ, তা নিয়েও দিশেহারা চারবারের জাতীয় চ্যাম্পয়ন৷

আরও পড়ুন: জেলে হাতাহাতিতে জড়ালেন ব্লেডরানার

এখন বয়স সত্তর ছুঁতে চলেছে৷ কেরিয়ারের উত্থান-পতনের সব স্মৃতিই এখনও টাটকা৷ বক্সিং কেরিয়ারের উজ্জ্বল দিনগুলোই এই বসয়ে বাঁচার তাগিদ জোগানোর কথা কৌরকে৷ অথচ ঠিক উল্টো ছবি ধরা পড়ল প্রাক্তন তারকার শরীরি ভাষায়৷ নিজের কেরিয়ার নিয়ে তীব্র বিতৃষ্ণা টের পাওয়া গেল কৌরের কথায়৷ একসময় কোচ হিসাবে নতুন নতুন প্রতিভা তুলে আনতে চাওয়া কৌর এখন যুবসমাজকে স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘আর যাই হোক, খেলাধূলাকে পেশা হিসাবে বেছে নিও না৷’ এই একই ভাবনা থেকে নিজের সন্তানদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন পেশাদার ক্রীড়ামঞ্চ থেকে৷
কিন্তু কেন এই পরিবর্তন কৌর সিংয়ের৷ আসলে উপেক্ষা আর বঞ্চনায় ভারাক্রান্ত কৌর এখন চরম অর্থ সংকটে ভুগছেন৷ দৈনন্দিন জীবন যাপণের জন্যই শুধু নয়, বেঁচে থাকার তাগিদেই তাঁকে লড়তে হচ্ছে ঋণের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে৷ সাহায্যের হাত বাড়াননি কেউ৷ সরকারী তরফে বেমালুম ভুলে যাওয়া হয়েছে একদা সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ঘোষণা করা পুরস্কারের কথাও৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় থালাইভা অশ্বিন, জাদেজার ছবিতে বিতর্ক

খেলোয়াড় জীবনেই যেমন বজ্রমুষ্ঠিতে একের পর এক প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করেছেন, ঠিক তেমনই কিছু ‘কাউন্টার পাঞ্চ’ হজম করতে হয়েছে৷ সেই চোটই এখন হৃদযন্ত্রের জটিল রোগের চেহারা নিয়েছে৷ প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকার ওষুধ নিয়মিত বিষয়৷ রোগ সারাতে মাঝে মধ্যেই ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে৷ যার খরচ জোগাড় করাই এখন চ্যালেঞ্জ কৌরের সামনে৷ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ৭১-এর যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেওয়া কৌরকে এককালীন ৩ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হয়েছিল আর্মির তরফে৷ প্রথম দফার চিকিৎসায় খরচ হওয়া পাঁচ লক্ষের বাকিটা ধার নিয়েছিলেন তিনি৷ শোধ করেছেন সেই দু’লক্ষ টাকা৷ নতুন করে নেওয়া ২ লক্ষ টাকার ঋণ আর পরিশোধ করে উঠতে পারছেন না৷

আরও পড়ুন: ফিরতি ডার্বি ২১ জানুয়ারি

এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার পর পাঞ্জাব সরকার এক লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছিল৷ যদিও আজ পর্যন্ত এক টাকাও দেয়নি তারা৷ সরকার বদল হয়েছে, কৌরের পুরস্কার নিয়ে অবস্থান বদলায়নি৷ এখনকার বাজারদরে পুরস্কার-অর্থ অন্তত ২০ লক্ষ টাকায় দাঁড়াত বলে মনে করেন কৌর নিজে৷ যা পেলে ঋণমুক্ত হওয়া ছাড়াও চিকিৎসা চালানোর খরচ বহন করতে পারতেন৷ বেশ কয়েকবার দরবার করেও যখন কোনও ফল মেলেনি, তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সতর্ক করাই যথাযথ কাজ বলে মনে হয়েছে কৌর সিংয়ের৷

Advertisement ---
-----