দেবময় ঘোষ, কলকাতা: নিরুপম সেন অসুস্থ৷ প্রায় গৃহবন্দী৷ দীর্ঘদিন আলিমুদ্দিনে যান না রাজ্যের একসময়ের দাপুটে শিল্পমন্ত্রী, সিপিএমের প্রাক্তন পলিটব্যুরো সদস্য৷ নিরুপমবাবুর চিকিৎসার দায়িত্বভার রয়েছে দলের উপর৷ তবে প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রীর অসুস্থতার খবর রাখে না রাজ্য সরকার৷ বাড়ি থেকেই চলছে তাঁর চিকিৎসা৷ স্ত্রী চন্দ্রাবলী সেন এবং পরিবারের আপনজনদের নিয়ে সল্টলেকের বাড়ি থেকে রোগভোগের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন ‘ব্র্যান্ড বেঙ্গলে’র অন্যতম পথীকৃত৷

নিরুপমবাবুর সহযোগী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও অসুস্থ হয়ে গৃহবন্দী৷ দিন দিন হারিয়ে ফেলছেন চোখের দৃষ্টি৷ পার্টি তাঁকেও দেখাশোনা করছে৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর খবর রাখেন৷ বুদ্ধবাবুর বাড়ি গিয়েও কয়েকবার দেখে এসেছেন তিনি৷ তবে সম্প্রতি বুদ্ধবাবুর শরীর আরও খারাপ হয়েছে৷ ডায়ালিসিস নিতে নিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তাঁর শিল্পমন্ত্রীও৷

পক্ষাঘাতে ন্যুজ শরীরের বাম দিক৷ স্ত্রী চন্দ্রাবলীই সারাদিনের সঙ্গী একসময়কার সদা ব্যস্ত মানুষটির৷ ‘‘সবসময় ভালো থাকেন না নিরুপম৷ সোমবার ডায়ালিসিস হয় না৷ তবে সোমবার আপনাকে সময় দিতে পারবেন না৷ অন্য কাজ আছে,’’ প্রতিবেদককে জানালেন চন্দ্রাবলী৷

সল্টলেকের ডিএল ব্লকে নিরুপমবাবু স্ত্রী-পুত্র-পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন৷ তাঁর মেয়ে থাকেন শ্বশুড়বাড়িতে৷ অসুস্থ নিরুপমকে দেখাশোনা করতে বাড়িতে রয়েছেন নার্স৷ সাহায্য করতে রয়েছেন চন্দ্রীবলীর বোন৷ তিন দিন অন্তর ডায়ালিসিস হয় নিরুপমের৷ ২০১৩ সাল থেকেই অসুস্থ তিনি৷ সে বার স্ট্রোক-আক্রান্ত বর্ষীয়ান কমরেড পার্টি কংগ্রেসে আর যেতে পারেননি৷ এবারের হায়দরাবাদ পার্টি কংগ্রেসেও যাননি৷ তবে এবছর রাজ্য কমিটিতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷

আমরি হাসপাতালের ডা. রঞ্জন সরকার এবং ইনস্স্টিটিউড অব নিউরো সায়েন্সের ডা. ঋষিকেশ কুমারের চিকিৎসাধান রয়েছেন নিরুপম৷ তাঁর স্ত্রী প্রশ্নের উত্তরে জানান, পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ নিরুপমের কোনও খোঁজ নেয়নি বর্তমান রাজ্য সরকার৷ সিপিএমের রাজ্য কমিটি এবং বর্ধমান জেলা কমিটি তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছে৷

সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো গাড়ির কারখানা এবং নন্দীগ্রামে কেমিকাল হাব তৈরিতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন নিরুপম সেন-ই৷ বাম সরকারের ‘কৃষি ভিত্তি, শিল্প ভবিষ্যত’ লাইনের সার্থক রুপায়ণে নিরুপমই ছিলেন গুরু দায়িত্বে৷ কিন্তু, সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম, কোথাও বাম সরকারের ইচ্ছাপূরণ হয়নি৷ ক্ষমতাচ্যুত বাম রাজ্যে রাজ্যে দিনে দিনে ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে৷ ‘ব্র্যান্ড বেঙ্গলে’র অন্যতম পথীকৃত তাই চার দেওয়ালের মাঝেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন শরীরকে৷

--
----
--