ফাঁসানোর চেষ্টা করলে জেল খাটিয়ে ছাড়ব- বিস্ফোরক ভারতী

স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: বলেছিলেন ‘সময়মতো’ মুখ খুলবেন৷ অবশেষে দীর্ঘ নীরবতার পর মঙ্গলবার মধ্যরাতে (৩১ জানুয়ারি) মুখ খুললেন৷ তবে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে৷তিনি ভারতী ঘোষ৷ চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরও যে তাঁর ‘মেজাজে’র পরিবর্তন ঘটেনি, বিস্ফোরক বার্তায় তাও ফের স্পষ্ট করে দিলেন৷

আরও পড়ুন- কর্পোরেট সংস্থার থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তুলেছে বিজেপি

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সওয়া দুটো৷ পশ্চিম মেদিনীপুরের কতিপয় সাংবাদিকের হোয়াটস অ্যাপে ঢুকল পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপারের মেসেজ৷যেখানে নাম না করে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের তাবড় দুই তৃণমূল নেতার উদ্দেশ্যে একদা মমতা ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন আইপিএসের সরাসরি হুমকি, ‘‘আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে জেল খাটিয়ে ছাড়ব!’’

আরও পড়ুন- লোকসভায় সাংসদদের অবস্থান ঠিক করতে বৈঠকে মমতা

সাংবাদিকদের মোবাইলে ভারতীয় পাঠানো বার্তাটি এরকম: ‘‘আপনাদের জানাতে বাধ্য হলাম, আজকে দুপুরে (মঙ্গলবার) পূর্ব মেদিনীপুরের এক তৃণমূল নেতা পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের এক তৃণমূল নেতাকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন- যাতে আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়৷ এটা খুব দুঃখজনক ব্যাপার৷সবং নির্বাচনের আগে ও পরে এই নেতা আমার সম্বন্ধে মিথ্যা কথা বাজারে ছড়িয়েছিলেন৷ এখন আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে শুনলাম৷’’ এরপরই বোমা ফাটিয়েছেন ভারতী ঘোষ৷ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘‘আমি এটুকু আপনাদের জানাচ্ছি, আমাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হলে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হিসেবে আমি কোর্টের কাছে সিবিআই তদন্ত চাইব৷ যাঁরা এই ধরনের মিথ্যা কেস করবে, তাঁরা জেল খাটবে।’’

আরও পড়ুন- রামে নেই কিন্তু হনুমানে আছে তৃণমূল

যদিও এই মেসেজের বিষয়ে বুধবার ভারতীদেবীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি৷ ফলে তাঁর প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি৷ দুই তৃণমূল নেতার কথোপকথন তিনি কিভাবে জানলেন, এই প্রশ্নেরও সুদত্তর মেলেনি৷

২০১১ – ২০১৭ টানা ৬ বছর পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পদে ছিলেন ভারতী ঘোষ৷ মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলমহলকে মাও মুক্ত করা থেকে এনকাউন্টারে মাল্লেজুল্লা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজিকে নিকেশ- সবেতেই নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারতীদেবী৷ মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার দৌলতে পালা বদলের বাংলায় পশ্চিম মেদিনীপুরে শাসকদলের মাথাও হয়ে উঠেছিলেন তিনি৷ প্রকাশ্যে সরকারি মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মা’ সম্বোধন করেও বিতর্ক জড়িয়েছেন তিনি৷

আরও পড়ুন- ৭০ হাজার টাকার জ্যাকেট পড়ে বিজেপির নিশানায় রাহুল

এহেন ভারতী ঘোষের সঙ্গে শাসক শিবিরের সু-সম্পর্কের তাল কাটে সদ্য সবং বিধানসভার উপনির্বাচনের পর৷অসমর্থিত সূত্রের খবর: ভারতীদেবী সবংয়ের ভোটে মুকুল রায়দের ‘অ্যাডভান্টেজ’ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুরের দাপুটে এক তরুণ নেতা৷ ভারতীদেবীর বিরুদ্ধে রীতিমতো তথ্য দাখিল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে৷ এরপরই গত বছরের শেষে ভারতীদেবীকে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের পদ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করে রাজ্য সরকার৷ যদিও শাসকদলকে চমকে দিয়ে চাকরি থেকেই ইস্তফা দিয়ে দেন তিনি৷

আরও পড়ুন- মমতাকে ত্যাগ করেই সাংসদ হওয়ার পথে বাইচুং

এমনকি কয়েকদিন আগে তাঁর ঘনিষ্ঠ পুলিশ অফিসারদের বদলির প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছিলেন ভারতী৷ জানিয়েছিলেন, ‘সময় মতো মুখ খুলবেন তিনি৷’ তারপরই মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারতীদেবীর বিস্ফোরক বার্তা৷ যাকে ঘিরে দুই মেদিনীপুর তো বটেই শাসকদলের রাজ্য নেতাদের মধ্যেও তোলপাড় শুরু হয়েছে৷ একটি অংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ হওয়া এবং নিজে আইপিএস অফিসার হওয়ার দৌলতে শাসকদলের অন্দরের অনেক অ-জানা কথায় জানেন ভারতীদেবী৷ তিনি যদি সত্যি সে সব বিষয়ে মুখ খোলেন, তাহলে দলের কতখানি বিড়ম্বনা হতে পারে, আপাতত সেটাই চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখছে শাসক শিবির৷ নাম না করে তিনি যেভাবে শাসকদলের দুই মেদিনীপুরের দুই দাপুটে নেতাকে ইঙ্গিত করেছেন, তাতে সন্মুখ-সমর অদূরে নয় বলেই মনে করছে রাজ্য রাজনীতির কারবারিরা৷

----
-----