দলের নির্দেশ অমান্য, দুই কাউন্সিলরকে সাসপেন্ড করল ফরওয়ার্ড ব্লক

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: দলের নির্দেশ অমান্য করায় কোচবিহার পুরসভার দুই ফরওয়ার্ড ব্লক কাউন্সিলরকে দল থেকে সাসপেন্ড করল ফরওয়ার্ড ব্লক। আজ সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের কোচবিহার জেলা সম্পাদক মন্ডলির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অক্ষয় ঠাকুর। যদিও চিঠি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোন মন্তব্য করতে চাননি সাসপেন্ড হওয়া দুই কাউন্সিলর।

কোচবিহার পুরসভা বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে৷ ২০১৫ সালে ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টিতে জেতে তৃণমূল কংগ্রেস, ২টি যায় নির্দলের দখলে ও বামেরা পায় আটটি। এর মধ্যে সিপিআইএম পাঁচটিতে ও ফরওয়ার্ড ব্লক তিনটি আসনে জয়লাভ করে।

আরও পড়ুন : ভোটের আগেই মোদী সরকারের চুক্তি করা ‘চিনুক’ পৌঁছল ভারতে

যদিও এর আগে সিপিএম তাদের এক কাউন্সিলরকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছিল দল বিরোধী কাজের জন্য। এবার ফরওয়ার্ড ব্লকের দুই কাউন্সিলর ১ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দনা মহন্ত এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন ঘোষকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হল৷ সূত্রের খবর ২০১৫ সালের পুরসভার নির্বাচনে জয় লাভের কিছু দিনের মধ্যেই, ফরওয়ার্ড ব্লকের তিন কাউন্সিলর তৎকালীন চেয়ারপার্সন রেবা কুণ্ডুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়৷ এছাড়াও পরে ভূষণ সিং চেয়ারম্যান হলেও তার সঙ্গেও ফরওয়ার্ড ব্লকের তিন কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় বস্তু হয়ে দাঁড়ায়।

অনেকবার তাঁদের এই এই নিয়ে সতর্ক করে দল। অবশেষে তিন কাউন্সিলরকে শোকজ করা হয় । দলের জেলা সম্পাদক অক্ষয় ঠাকুর জানিয়েছেন তিন জনের মধ্যে চন্দনা মহন্ত এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নারায়ন সরকার শোকজের উত্তর দেন, কিন্তু তপন ঘোষ উত্তর দেননি, অন্যদিকে নারায়ণ সরকারের উত্তর সম্পাদক মন্ডলির কাছে সন্তোষ জনক লাগলেও, চন্দনা মহন্তর উত্তর ছিল অসন্তোষজনক। যার ফলে দুই কাউন্সিলরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছনে দলের জেলা সম্পাদক অক্ষয় ঠাকুর।

আরও পড়ুন :অসমে খুন দুই বাঙালি, NRC-র ছায়া দেখছে তৃণমূল

এদিন অক্ষয় ঠাকুর বলেন “দলের কর্মীদের সংখ্যা বেশি দরকার নেই আমাদের৷ তাঁদের গুনগত মান ভাল চাই, যারা দলের নীতি মেনে চলতে পারেনা তাঁদের জন্য দল এই সিদ্ধান্ত নেবে”। তিনি বলেন তিন কাউন্সিলর দলের নির্দেশ অমান্য করে, তাই শোকজ করা হয়, তাঁদের মধ্যে এক জনের উত্তর সন্তোষজনক ছিল৷ বাকিদের উত্তর সন্তোষজনক হয়নি, তাই দল বাধ্য হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নিতে।