চার মাস পর পালিয়ে যাওয়া ছেলেকে ঘরে ফেরাল পুলিশ

ঢাকা: প্রায় চার মাস আগে বাবার বকুনির ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে ছিল ছেলে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বাড়িতে ফিরিয়ে দিল ছেলেকে৷ ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুর জেলার কলাখালী ইউনিয়নের উদয়কাঠি গ্রামে৷ ছেলের নাম ফয়সাল হোসেন৷ নগরীর চান্দগাঁও থানার চররাঙামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ফয়সাল হোসেন৷

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ এপ্রিল তার ইংরেজি পরীক্ষা ছিল। দুপুরে পরীক্ষা হবে এমনটা ভেবে পরীক্ষার দিন ১১ টা ১৫ মিনিটে সে বাড়ি থেকে বের হয়৷ কিন্তু স্কুলে গিয়ে জানতে ওই দিন সকালেই পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে৷ পরীক্ষা দেয়নি শুনলে বাবা অনেক মারবে এই ভয়ে সে আর বাড়ি ফেরিনি সেদিন৷ এরপর তাঁর বাবা ছেলে ফয়সাল হোসেনকে খুঁজে না পেয়ে ২ মে প্রতিবেশী এক দম্পতির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের অপরাধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল৷য

আরও পড়ুন: রক্তের অভাব মেটাতে এগিয়ে এল একদল তরুণ তূর্কি

- Advertisement -

তাঁর করা অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে জিঞ্জাসাবাদ করে পুলিশ৷ কিন্তু তাদের কাছ থেকে ফয়সালের কোনও খোঁজ পায়নি পুলিশ৷ এরপর এই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নেন পিবিআইর এসআই মো. জাহেদুজ্জামান চৌধুরী৷ তিনি ফয়সালের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে দেন৷

এদিকে ফয়সাল পালিয়ে তাঁর বাবা মা মারা গিয়েছে এই অজুহাত দিয়ে কহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেয়৷ তিনি ওই পোস্টটি দেখে জাহেদুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ এরপর তাঁর হাতে ফয়সালকে তুলে দেন৷ মো. জাহেদুজ্জামান চৌধুরী ফয়সালের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে দেন৷

আরও পড়ুন: ফের উদ্ধার কয়েক কেজি পচা মাংস

উদ্ধার হওয়ার পর ফয়সাল জানায়, বাবার বকুনির ভয়ে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি৷ এরপর একটি মাল বোঝাই গাড়িতে করে নগরীর লালদীঘির পাড়ে যায়৷ সেখান থেকে বাসে করে নিউ মার্কেট যায়৷ তারপর হেঁটে সেখান থেকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন যায় সে৷ স্টেশনে স্কুলের পোশাক খুলে ২০ টাকায় একটি টি-শার্ট কিনে নেয় পড়ে নেয়৷ যাতে সেখানে কেউ তাকে চিনতে না পারে। তারপর স্টেশনের বিভিন্ন দোকানে জল সরবরাহের কাজ করে সে। ওই কাজে দিনে তার ২০০ টাকা করে আয় হত।

সে আরও জানায়, টানা এক মাস এই জল সরবরাহের কাজ করে সে৷ এরপর কাজটি আর ভালো লাগেনি৷ এরপর সে ঢাকা আসে বাড়ি যাওয়ার জন্য৷ কিন্তু বাড়ির ঠিকানা ভুলে যাওয়ায় সে আর বাড়ি ফিরতে পারেনি৷ এরপর সে নীলফামারী যাওয়ার বাসে ওঠে৷ সেখানে তাকে দেখতে পায় কহিদুল ইসলাম৷ তিনি তাকে নীলফামারীর সদর থানার ওসির কাছে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: ভালবেসে বিয়ে, তাই স্বামীর ঘরে অত্যাচার সইত মুখ বুজে

ফয়সাল সেখানে গিয়ে জানায় তার মা বাড়ি বাড়ি কাজ করতেন৷ আর বাবা ট্রাক্টর চালাত৷ তাঁরা দুজনেই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন৷ এই কথা শুনে কহিদুল ইসলাম তাকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখেন৷ এরপর কহিদুল ইসলাম ফেসবুক পোস্ট দেখে তাকে তার বাবা মার কাছে ফিরিয়ে দেন৷

 

Advertisement ---
---
-----