নারী সুরক্ষায় পাওয়ার অ্যাপ, তাক লাগাল চার পড়ুয়া

দেবযানী সরকার, কলকাতা: দুষ্কৃতীর খপ্পরে পড়েছেন? কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত অসহায় বোধ করছেন? কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়বেন না৷ শুধুমাত্র স্মার্ট ফোনের পাওয়ার বাটনে পরপর তিনবার চাপ দিন৷ পলকের মধ্যে আপনার অসহায় অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে যাবেন পুলিশ কর্তারা থেকে আস্থাভাজন প্রিয়জন৷ সৌজন্যে ‘সেফ ইন্ডিয়া’৷

যতদিন যাচ্ছে সমাজে নারী নিগ্রহের ঘটনা বাড়ছে৷ প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির ঘটনা সংবাদে জায়গা করে নিচ্ছে৷ মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়াতে শান্তিনিকেতন ইনস্টিটিউট অফ পলিটেকনিক কলেজের কম্পিউটার সায়েন্স ও টেকনোলজির ফাইনাল ইয়ারের চার পড়ুয়া ‘সেফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছে৷

কীভাবে কাজ করবে এই অ্যাপটি?

- Advertisement -

প্রথমে গুগল প্লে স্টোর থেকে সেফ ইন্ডিয়া অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে৷ তারপর দুটি প্রশাসনিক নম্বর এবং একটি পরিজনের নম্বর সেভ করে দেবেন৷ বিপদে পড়লে মোবাইলের পাওয়ার বাটন চেপে ধরলেই পাওয়ার অফ, রিস্টার্ট ও এমারজেন্সি অপশন আসে৷ স্ক্রিনের উপর পাওয়ার অফ অপশনে তিনবার ক্লিক করলেই বিপদ সংঙ্কেত এসএমএসের মাধ্যমে আপনার সেভ করা নম্বরে পৌঁছে যাবে৷ সঙ্গে সঙ্গে চলে যাবে মোবাইলের লোকেশনও৷

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজ্যের মধ্যে এ ধরনের অ্যাপ এটাই প্রথম৷ যে চার জন মিলে এই অ্যাপটি তৈরি করেছে তাদের নাম সোহেল রাণা, অর্পিতা বক্সি, সৌম্যদীপ্তি চট্টোপাধ্যায় ও বিশ্বজিৎ নন্দী৷ এর মধ্যে সৌম্যদীপ্তিই একমাত্র বীরভূমের মেয়ে৷ বাড়ি কীর্ণাহারে৷ বাকি তিনজনের মধ্যে সোহেলের বাড়ি নদীয়ার বেথুয়াডহরি৷ অর্পিতা দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের মেয়ে এবং বিশ্বজিৎ কামারপুকুরের ছেলে৷ এঁরা প্রত্যেকেই বছর একুশ-বাইশের৷

সোহেলের কথায়, “সাধারণত এ ধরনের ঘটনাগুলি ঘটে যাওয়ার অনেক পরে পুলিশের কাছে খবর পৌঁছয়৷ ততক্ষণে অনেক কিছুই ঘটে যায়৷ কিন্তু এই অ্যাপ চালু হলে এ রাজ্যের মহিলারা অনেক বেশি সুরক্ষিত হবেন৷ এটা আপাতত ডেমো হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে৷ এরপর এটাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে৷ যেমন এটাকে আমরা অফলাইনে চালু করতে চাই৷ তাহলে মোবাইলে ইন্টারনেটের দরকারই পড়বে না৷”

আরও এক কৃতী অর্পিতার কথায়, “আমাদের নিজেদেরও কোচিংয়ে পড়ে বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায়৷ চারপাশে যা ঘটছে তাতে একটু ভয় তো থাকেই৷ পুলিশ-প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, তাঁরা যেন সবার জন্য এই অ্যাপটি চালু করার ব্যবস্থা করেন৷”

চার পড়ুয়ার এই উদ্যোগে গর্বিত কলেজ কর্তৃপক্ষ৷ কলেজের সহ অধ্যক্ষ স্বর্ণকমল মুখোপাধ্যায় বলেন, “ওরা চারজন মিলে যেটা করেছে সেটা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন৷ আমরা জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়েছি এই অ্যাপটি গ্রহণ করার জন্য৷ এখন তাঁদের উত্তরের অপেক্ষায় আছি৷”

Advertisement
----
-----