থ্রিলার ফাইনাল হেরে ‘ট্র্যাজিক’ নায়ক ক্রোটরা

মস্কো: নকআউটে টানা তিনবার পিছিয়ে থেকে কামব্যাক! ফাইনালে আর হল না৷ প্রথমার্ধে ২৮মিনিটে পিছিয়ে থেকে পেরিসিচের দুরন্ত গোলে ম্যাচ ফিরেছিল মদ্রিচরা৷ দ্বিতীয়ার্ধেও ১-৪ পিছিয়ে থেকে ৬৯ মিনিটে ফ্রান্স গোলরক্ষক লরিসের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে ২-৪ করেন মানজুকিচ৷ এরপরও শেষ রক্ষা হল না৷ ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নের দৌড় শেষ হল ফাইনালে৷ রানার্স হয়েই মাঠ ছাড়ল মদ্রিচ অ্যান্ড কোং৷ বৃষ্টিতে ঢাকা পড়ল রাকিটিচদের কান্না! ভাগ্যের কাছে হার ক্রোটদের৷ একটি আত্মঘাতী গোল ও একটি হ্যান্ডবলের খেসারত দিতে হল প্রথমবার ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়াকে৷

৬ গোলের থ্রিলার জিতে দ্বিতীয় বারের জন্য বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স৷ শেষবার ১৯৯৮ সালে দেশের মাটিতে দেশঁ’র নেতৃত্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স৷ বিশ সাল বাদ এবার কোচের হটসিটে বসে ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন করলেন দেশঁ৷ ২০১৬-র ইউরো হারের জ্বালা জুড়ালেন সুপার কোচ৷

দ্বিতীয়ার্ধে ৬ মিনিটের একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকেই ভিদা-সুভাসিচের ক্রোয়েশিয়াকে ঝাঁঝরা করে দেয় ফ্রান্স৷ ৫৯ মিনিটে গোল পোগবার৷ এরপর ৬৫ মিনিটে গোল তরুণ স্ট্রাইকার এমবাপের৷

- Advertisement -

ক্রোয়েশিয়ার আত্মঘাতী গোল, পেরিসিচের দুরন্ত কামব্যাক আর গ্রিজমানের পেনাল্টি! লুজিনিকি’র প্রধমার্ধে নাটকের অভাব ছিল না৷ অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ বাড়িয়ে দিল এক একটা মুহূর্ত৷ বাদ পড়ল না ভারও৷ ৩৮ মিনিটে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলটিতে ভারের হাত! সহকারী ভিডিও রেফারির সাহায্যে নিয়ে ফ্রান্সকে পেনাল্টি দেন আর্জেন্তাইন রেফারি৷

দ্বিতীয়ার্ধে এরপর রোলার কোস্টার রাইড! প্রথমার্ধের চেয়ে উত্তেজনার পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল দুই ফাইনালিস্ট৷ পোগবা-এমবাপের গোল যেমন আছে৷ ঠিক তেমনই সুপার কিপার লরিসের ভুলও ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকবে৷ বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্রোয়েশিয়ার মানজুকিচকে দিয়ে গোল করিয়ে দেন লরিস৷ হেড টু হেড লড়াই হল ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়ার৷

বল পজিশনে ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে ফাইনাল জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ফ্রান্স৷ ৯০ মিনিট ধরে দুরন্ত লড়াই করেও ট্র্যাজিক নায়ক হয়ে থেকে গেল ক্রোটরা৷ ফাইনালে খলনায়ক বনে গেলেন সেমিফাইনালের নায়ক মানজুকিচ৷ তাঁর আত্মঘাতী গোল নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়াল৷ ফাইনাল শেষে রাশিয়ার মাটিতে লুজনিকিতে উড়ল ফ্রান্সের পতাকা৷ চোখের কোণে জল নিয়ে বাকরুদ্ধ মদ্রিচ-মানজুকিচরা৷

এমন উত্তেজক ফাইনাল শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৯৮৬ সালে৷ সেবার ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্তিনা৷এরপর একাধিক ফাইনাল কখনও হয়েছে একপেশে কখনওবা শ্যুট আউটে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হয়েছে৷ শেষবার ১৯৬৬ ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে ৬ গোলের থ্রিলার জিতেছিল ইংল্যান্ড৷ পাঁচ দশক পর ফের এমন এক ৬ গোলের উত্তেজক ফাইনাল পেল ফুটবল দুনিয়া৷

Advertisement ---
-----