মেসির চোখে জল! আর্জেন্তিনাকে হারিয়ে শেষ আটে ফ্রান্স

কাজান: রোমাঞ্চভরা ম্যাচে নারকীয় পরাজয় আর্জেন্তিনা…! এমবাপে-পগবা-গ্রিজমানদের কাছে আত্মসমপর্ণ মেসি-ডি’মারিয়াদের৷ আর্জেন্তিনাকে ৪-৩ হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স৷

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই রোমাঞ্চকর হয় ওঠে ফরাসি-আর্জেন্তাইন ফুটবলারদের লড়াই৷ ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির দুরন্ত শট পায়ে ঠেকিয়ে আর্জেন্তিনাকে ২-১ এগিয়ে দেন মাকার্ডো৷ কিন্তু এই গোলই যেন ফরাসি আক্রমণে ঘি ঢেলে দেয় আর্জেন্তিনা৷ ৫৭ মিনিটে বেঞ্জামিন পাভার্দের দুরন্ত গোলে ম্যাচে সমতা (২-২) ফেরায় ফ্রান্স৷ এর পর থেকেই আর্জেন্তিনার ডিফেন্স নিয়ে ছেলে খেলা করেন এমবাপে, পগবারা৷ মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ১৯৯৮ এর চ্যাম্পিয়নদের ৪-২ এগিয়ে দেন এমবাপে৷ আর্জেন্তাইন ডিফেন্স তছনছ করে ৬৪ ও ৬৮ মিনিটে জোড়া গোল করেন প্যারিস সাঁ জা’র এই ফরোয়ার্ড৷ ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে মেসির দুরন্ত পাশ থেকে আগুয়েরোর হেড ব্যাবধান কমালেও (৩-৪) বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল গতবারের ফাইনালিস্টরা৷

প্রথম একাদশে না-থাকা আগুয়েরো মাঠে নেমেই আর্জেন্তিনার আক্রমণে গতি আনেন৷ কিন্তু ফরাসি স্ট্রাইকারদের গতির বিরুদ্ধে বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়ে আর্জেন্তিনার ডিফেন্স৷ ম্যাচের একদম অন্তিমলগ্নে ড্র করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল আর্জেন্তিনার সামনে৷ কিন্তু ডি’মারিয়ার বাড়ানো বল ফ্রান্সের জালে জডাতে ব্যর্থ হন আর্জেন্তাইন মিডিও মেজা৷

- Advertisement -

রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম নক-আউটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই৷ দ্রুত গতির ফরাসি ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুতে কিছুটা ব্যাকফুটে ছিল আর্জেন্তিনা৷ প্রথর্মার্ধে ডি’ মারিয়ার গোল ছাড়া বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি মেসি-ডি’ মারিয়ারা৷ প্রথমার্ধের ফ্রান্সের গোলে মাত্র দু’বার বল রাখতে পেরেছিল আর্জেন্তিনা৷ যার মধ্যে একটি ডি’ মারিয়ার দুরন্ত শটে গোল৷

কাজান এরিনায় এদিন ম্যাচের ৯ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে নিতে পারতেন অঁতোয়ান গ্রিজমান। কিন্তু তা হয়নি৷ তবে ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন সেই গ্রিজমানই৷ প্রতি আক্রমণে মাঝ মাঠে বল পেয়ে দারুণ গতিতে এগিয়ে যাওয়া কিলিয়ান এমবাপেকে ফেলে দিয়ে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন মার্কাসো রোজো৷ স্পট-কিকের নির্দেশ দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি গ্রিজমান৷

ফের দ্রুত গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে যাওয়া এমবাপেকে থামাতে গিয়ে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকো। এবার বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় ফ্রান্স। ২১ মিনিটে পল পগবার ফ্রি-কিক ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।

প্রথমার্ধের সময় যত ফুরিয়ে আসছিল, ততই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন মেসিরা৷ ২৫ গজ দূর থেকে ডি’ মারিয়ার শট কাঁপিয়ে দেয় ফ্রান্সের তেকাঠি। ম্যাচে সমতা ফেরায় আর্জেন্তিনা৷ স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন সাম্পাওলির ছেলেদের৷ গ্যালারিতে লাফিয়ে ওঠেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক দিয়েগো মারাদোনা৷ প্রথমার্থ ১-১ গোলে শেষ হয়৷

এদিন প্রথম একাদশে আগুয়েরো ও হিগুয়াইনকে দলে রাখেননি আর্জেন্তাইন কোচ সাম্পাওলি৷ আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি ও ডি’ মারিয়ার সঙ্গী ছিলেন ক্রিশ্চিয়ান প্যাভোন। দ্বিতীয়ার্ধের কিছুক্ষণ পরে আগুয়েরোকে নামান আর্জেন্তাইন কোচ৷ কিন্তু ডেনমার্কের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ছ’টি পরিবর্তন আনা ফ্রান্স নক-আউটের প্রথম ম্যাচে দলে ফিরিয়েছে লরিস, পগবা, এমবাপে, উমতিতি, পাভার্দ এবং মাতুইদিকে।

আর্জেন্টিনা: ফ্রাঙ্কো আরমানি, মার্কোস রোজো, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকো, গ্যাব্রিয়েল মার্কাডো, জাভিয়ের মাসচেরানো, এভার ব্যানেগা, এনজো পেরেজ, লিওনেল মেসি, ডি মারিয়া, ক্রিশ্চিয়ান প্যাভন।

ফ্রান্স: হুগো লরিস, লুকা হার্নান্ডেজ, রাফায়েল ভারানে, স্যামুয়েল উমতিতি, বেঞ্জামিন পাভার্দ, পল পগবা, এনগোলো কঁতে, ব্লেইস মাতুইদি, অলিভিয়ে জিরুদ, অঁতোয়ান গ্রিজমান, কিলিয়ান এমবাপে।

Advertisement
---