স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: পুরপ্রধানের নাম করে কলকাতার একটি নির্মাণ সংস্থার এজেন্টদের কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরে৷

বুধবার বিকেলের প্রতারণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়াল বারাকপুর আনন্দপুরি মাঠ এলাকায়৷

বারাকপুর পুরসভার ওই মাঠে শপিং কমপ্লেক্স তৈরি হতে চলেছে৷ মাত্র সাড়ে তিন লক্ষ টাকা বুধবার দুপুরের মধ্যে নগদে জমা করলে তাঁর টেন্ডার পাশ করিয়ে দেওয়া হবে, এই কথা বলে মঙ্গলবার কলকাতার আগরওয়াল কনস্ট্রাকশন কোম্পানির এজেন্টদের কাছে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন যায় বলে অভিযোগ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান উত্তম দাসের নামে ফোনটি করা হয়৷ কলকাতার ওই কনস্ট্রাকশন কোম্পানির এজেন্টদের বুধবার দুপুরের মধ্যে নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ও তাদের কোম্পানির কাগজপত্র-সহ বারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দেওয়া হবে বলে দেখা করতে বলা হয়৷ সেই মতো কলকাতার আগরওয়াল কনস্ট্রাকশন কোম্পানির তিনজন এজেন্ট বুধবার দুপুরে নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা এবং তাদের কোম্পানির কাগজ পত্রের প্রতিলিপি নিয়ে হাজির হন৷ প্রথমে ওই তিনজন এজেন্টকে বারাকপুর আনন্দপুরি মাঠ দেখানো হয়৷

অভিযোগ, প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত দু’জন প্রতারক এরপর তাঁদের নিয়ে যায় বারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে৷ সেখানে ওই কনস্ট্রাকশন কোম্পানির এজেন্টদের থেকে তাদের কোম্পানির কাগজপত্রের প্রতিলিপি ও নগদ সাড়ে তিনলক্ষ টাকা নিয়ে নেয় দুই প্রতারক৷ ওই প্রতারকরা কনস্ট্রাকশন কোম্পানির এজেন্টদের কাছে দাবি করেন, তাদের বারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান উত্তম দাস পাঠিয়েছেন৷ ওই এজেন্টদের বলা হয় প্রশাসনিক ভবনে অপেক্ষা করতে তারা ১০ মিনিট পর সাড়ে তিনলক্ষ টাকা টেন্ডার পাসের জমা করার রিসিপ্ট করিয়ে নিয়ে আসবে৷

এরপর দেড় ঘণ্টা কেটে গেলে ওই কোম্পানির এজেন্টরা বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছেন৷ ততক্ষণে এলাকা ছেড়ে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়েছে দুই প্রতারক৷ ওই এজেন্টরা এরপর খোঁজ করে বুধবার বিকেলেই পৌঁছে যায় সরাসরি বারাকপুর পুরসভায়৷ সেখানেই তারা দেখা করেন পুরপ্রধান উত্তম দাসের সঙ্গে৷ উত্তম বাবু নিজেই টিটাগড় থানার পুলিশকে খবর দেন৷ পুলিশের কাছে ওই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়৷

পুলিশ সূত্রের খবর, টিটাগড় থানার পুলিশ তাদের ফাইলে থাকা কয়েকজন প্রতারকের ছবি দেখান প্রতারণার শিকার হওয়া ওই কনস্ট্রাকশন কোম্পানির এজেন্টদের৷ তার মধ্যে এক প্রতারককে শনাক্ত করেন প্রতারিত এজেন্টরা৷ টিটাগড় থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷

জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক বছর আগেও একই কায়দায় বারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান উত্তম দাসের নাম নিয়ে প্রতারণা করে ধরা পড়েছিল একটি চক্র৷ জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তারাই ফের একই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান পুলিশের৷

আনন্দপুরি মাঠটি দেখিয়ে শপিং কমপ্লেক্স গড়া হবে বলে প্রতারণা করা হয়েছে৷ ওই মাঠটি বারাকপুর পুরসভা অঞ্চলে হলেও সেটি প্রতিরক্ষা দফতরের জায়গা, ফলে ওই জমিতে শপিং কমপ্লেক্স গড়ে ওঠার প্রশ্নই নেই বলে বারাকপুর পুরসভা সূত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে৷

----
--