স্বাধীনতা সংগ্রামীর তাজা প্রাণ, বিফলে গিয়েছিল নৃশংস হত্যার চেষ্টা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি সাঁওতাল বিদ্রোহী। ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। করেছিলেন প্রতিবাদ। বিদ্রোহের শাস্তিস্বরূপ নৃশংস ভাবে হত্যার পদ্ধতি নেয়। বেঁধে দেওয়া হয় ছুটন্ত ঘোড়ার পিছনে। কিচ্ছু হয়নি। তিনি বাবা তিলক মাঝি।

অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকের কথা। ভারত জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে ইংরেজ রাজ। শুরু হয়েছে প্রবল অত্যাচার। রাজা থেকে সাধারণ মানুষ পায়ের তলায় পিষে মারছে তারা। শুরু হল প্রতিবাদ। ভাগলপুর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ‘খেরওয়াড় বিদ্রোহ (১৭৮১-৮৪)শুরু হয়েছিল। নেতৃত্বে ভারতের প্রথম সাঁওতাল বিদ্রোহের শহিদ তিলকা মাঝি।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জমি লুঠ ও বলপূর্বক খাজনা আদায়ের নির্মম পন্থা অবলম্বন করেছিল। এর বিরুদ্ধে গরীব সাঁওতালদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ক্ষোভ অল্প সময়ের মধ্যেই গণ বিদ্রোহের আকার নেয়। ভাগলপুরের সাঁওতালদের এক করেন বিদ্রোহী নেতা তিলকা মাঝি। সবাইকে এক যোগে বেঁধে ইংরেজ হঠাতে তীর ধনুক হাতে নেমে পড়েন তিনি। দীর্ঘ আন্দোলনে বহু সাঁওতাল শহীদ হন। দমেননি বাবা তিলকা।

১৭৮৪ জানুয়ারী, তিলকা মাঝির হাতে মৃত্যু হয় ভাগলপুরের ইংরেজ কালেক্টর অগাস্ট ক্লিভল্যান্ডের। তিলকপুরের জঙ্গলে ইংরেজ সেনাবাহিনী তিলকা ও তাঁর সঙ্গীদের ঘেরাও করে। আহত অবস্থায় ধরা পড়েন আন্দোলনের নেতা তিলকা। রাগে ঘোড়ার পিছনে বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হল তাঁকে। রক্তে গা ভেসে যাচ্ছে। মাথা ফেটে গিয়েছে। তবু মৃত্যুকে হার মানালেন।

সংগ্রামীর শক্ত জান হার মানেনি। শেষে ভাগলপুর শহরে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তিলকা মাঝিকে। এবারে আর পারেননি বাবা তিলকা। মৃত্যু বরণ করেন ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম দিকের অন্যতম নেতা।

তবে তাঁর জন্মভূমি তাঁকে ভুলে যায়নি। যেখানে তাঁকে হত্যা করা হয় সেখানে তাঁর একটি মূর্তি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তিলকার সম্মানে ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তিলকা মাঝি ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সাঁওতাল পরগনার সদর শহর দুমকাতেও আছে তাঁর মূর্তি।

তিলকা মাঝি ১৭৫০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির এমন দিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ফাঁসি দেওয়া হয় ১৩ই জানুয়ারি, ১৭৮৫।