বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে নামার আগেই ফরাসি বিপ্লব

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: রবিবার ১৫ জুলাই বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স এবং ক্রোয়েশিয়া৷ অবশ্য তার আগের দিনে তো ফরাসি বিপ্লব৷ আজ থেকে ২২৯ বছর আগেই সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতার কথা শোনা গিয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে৷

সেই দিনটা ছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই৷ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের শ্রমিক, কারিগর এবং গ্রাম ও শহরের গরিব মানুষ পথে নেমে এসেছিল৷ সেদিন প্যারিসের সর্বত্র বিক্ষোভ মিছিল। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করাতে রাজার নির্দেশে মিছিলের ওপর অশ্বারোহীবাহিনী চালিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্যারিসের সামরিক অধিনায়ক সসৈন্যে সরে দাঁড়ালে রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ জনতার হাতে চলে যায়। রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড করা হয় এবং লুট করা হয় আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান। উত্তেজিত জনতা আরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক বাস্তিল কারাদুর্গে আক্রমণ করে। প্যারিসে বাস্তিল দুর্গ ধ্বংস শুরু করে ঠিক এক বছরে অর্থাৎ ১৪ জুলাই ১৭৯০ তা ধ্বংস সম্পূর্ণ করে। সেখানেই মাথা তুলে রয়েছে ৭০৫ ফুট দীর্ঘ এই বাস্তিল সৌধ।

- Advertisement -

১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হলেও তা ধাপে ধাপে এগোয়৷ বাস্তিলের পতন, সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা মানবাধিকারের ঘোষণা ইত্যাদির পেরিয়ে বিপ্লব এগোয় একেবারে প্রজাতন্ত্র ঘোষণার দিকে৷ ১৭৯১ সালে ১০ অগস্ট প্যারিসের আন্দোলনরত জনতা রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে তা দখল করে নেয়৷ আবার বৈপ্লবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ ফ্রান্সের সাধারণ মানুষের কাছে বাস্তিল ছিল বুরবোঁ রাজবংশের সীমাহীন ঔদ্ধত্য ও অত্যাচারের প্রতীক।

কারাগারের অন্ধ-কুঠুরিতে স্বাধীনতা ও সাম্যের শপথে দীক্ষিত শত শত রাজনৈতিক কর্মীকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে আঁটকে রাখা হয়েছিল। তাই বাস্তিল দুর্গের পতনের পর সাধারণ মানুষ কারাগারটি চুরমার করেছিল যাতে তার কোনও চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকে।

ওই স্থানটি এখন Place de la Bastille বলে পরিচিত। সৌধটিও বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় ও ঐতিহ্য স্থান হিসাবে চিহ্নিত। দেশবিদেশের বহু মানুষ ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত এই সৌধটি পরিদর্শনের জন্য আসেন। প্রতিবছর ১৪ জুলাই সাম্য স্বাধীনতা ও সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী হাজার হাজার মানুষ এই সৌধের পাদদেশে মিলিত হন তাঁদের সংগ্রামের শপথ নতুন করে উচ্চারণ করার জন্যে।

এবারে বিপ্লবের দিনটি পালন করতে না করতেই বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় মশগুল ফরাসিরা৷ ২০ বছর আগে ফুটবলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স৷ সেবার ফাইনালে ব্রাজিলকে তিন গোলে হারিয়েছিল ফরাসিরা আর নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া তৃতীয় স্থান দখল করে৷ এবার অবশ্য আয়োজক দেশ ফ্রান্স নয়, তার বদলে রাশিয়া৷ আর ফাইনালে ফরাসিরা মুখোমুখি হচ্ছে ক্রোয়শিয়ার৷ হাতে তো আর মাত্র একটা দিন, তারপরেই তো ঠিক হয়ে যাবে আগামী চার বছর কাদের দখলে থাকবে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপটি৷

Advertisement
---