চার বারের ব্যর্থতা কাটিয়ে সাফল্যের সিঁড়িতে এই আইপিএস

বেঙ্গালুরু: তিনি হেরে যান নি৷ বা বলা ভালো তিনি নিজেকে হারতে দেননি৷ প্রথাগত সব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজ তিনি একজন সফল আইপিএস অফিসার৷ মিঠুন কুমার জি কে৷ এই আইপিএসের স্কুল জীবনের শুরুটা হয়েছিল ব্যর্থতা দিয়ে৷

বহু কষ্টে, হয়ত সবচেয়ে কম নম্বর নিয়ে স্কুল আর কলেজের গণ্ডী পেরিয়েছেন মিঠুন৷ উজ্জ্বল তো নয়ই, ছাত্র হিসেবে সাধারণের মধ্যেও নজর কাড়েননি কখনও৷ এহেন ছাত্র যে ভবিষত্যে কিছু করবে, আশায় ছিলেন না শিক্ষকরা, এমনকী বাড়ির লোকেরাও৷

পড়ুন: কতটা কুঁড়ে আপনি? দেখে নিন WHO-এর রিপোর্ট

- Advertisement -

তবে দায়িত্ব ছিল সেই কাঁধে৷ বাড়ির সবচেয়ে বড় সন্তান হওয়ায় চাকরি পাওয়া ছিল জরুরি৷ অনেক কষ্টে জুটেছিল সফটওয়্যার সেক্টরের একটি চাকরি৷ স্নাতক হওয়ার পর সেই চাকরিই ছিল বাড়ির রুজি রুটি৷ তারপর ব্যস্ত হয়ে পড়া দশটা পাঁচটার জীবনে৷ নুন আনতে যেন পান্তা না ফুরোয়, সেই লড়াই প্রতিদিনের৷

কিন্তু সেই চাকরি থেকে কখনও আত্মসন্তুষ্টি পান নি মিঠুন৷ মন বলত অন্য কিছুর কথা৷ চোখ করত অন্য পেশার খোঁজ৷ মাথায় ঘুরত, কিছু একটা যেন থেকেও নেই৷ এই ভাবেই চলল তিন বছর৷ তারপর ছোট ভাই সংসারের হাল ধরতেই চাকরি ছাড়লেন৷

এর পরের গল্পটাই ছিল একটা স্বপ্ন৷ বাবা চেয়েছিলেন ছেলে পুলিশ কর্মী হোক৷ নিজেও সেই পেশার প্রতি অদ্ভুত টান অনুভব করতেন৷ কোথাও কোনও পুলিশ কর্মী দেখলেই জ্বলে উঠত চোখ৷ মন চাইত এই কাজটাই করতে৷ বাবার পরামর্শে পরীক্ষায় বসলেন মিঠুন৷

অনেকেই বলেছিলেন পুলিশের পরীক্ষা কেন, প্রশাসনিক পদের জন্য আবেদন করুক ছেলে৷ তবে পুলিশের উর্দে তাঁকে টানত৷ তাই লোকের কথায় নয়, মনের কথাই শুনলেন মিঠুন৷
ফলও পেলেন হাতে নাতে৷ এবার আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি৷ ২০১৬ সালে চার বার ব্যর্থতার পরে ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করলেন তিনি৷ ব়্যাঙ্ক ছিল ১৩০৷

পড়ুন: প্রতিদিন থানায় আসতে হয় এই পড়ুয়াদের!

কর্ণাটকের বাসিন্দা এই আইপিএসের উত্থানটা একবারেই স্বপ্নের মতো নয়৷ বরং এ গল্প অনেক ছাপোষা, আপনার-আমার মতো আর পাঁচটা সাধারণ ছেলে মেয়ের কথা৷ এ গল্প একটা শিক্ষা দিয়ে যায়৷ বলে দিয়ে যায় যে সাধারণ হয়ে থাকার মধ্যে কোনও মহত্ত্বতা নেই৷ বরং সাধারণ থেকে নজির হয়ে ওঠাটাই একটা স্বপ্নের জন্ম দেয়৷
যে স্বপ্ন দেখি আমরা সবাই, প্রত্যেকে৷ কোনও স্বপ্নের মৃত্যু হয়, কোনওটা আবার বাস্তব হয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় বেঁচে থাকা কাকে বলে৷ সেই পাঠই দিয়ে যাচ্ছেন মিঠুন কুমার৷

Advertisement
----
-----