বস্তি থেকে রাইসিনা হিলে ‘পদ্মশ্রী’ হাতে বালিকাবধূ

পুরুষের সঙ্গে পা মিলিয়ে যে মহিলারা এগিয়ে চলেছে একথা নতুন নয়। তবে যে মেয়ের বাল্যবিবাহ হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি আশা করেন না কেউই। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলেই যে অন্ধকারের মধ্যে আলোর দিশা খুঁজে পাওয়া যায় সেকথাই প্রমাণ করেছেন কল্পনা সরোজ। সম্প্রতি পদ্মশ্রী পেয়েছেন এই ভারতীয় মিলিয়নেয়ার।
kalpana-2
বিদর্ভের দলিত পরিবারের সন্তান কল্পনা। মাত্র ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। মুম্বইয়ের বস্তিতে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করলেন তিনি। এরপর শুরু হয় অত্যাচারের কাহিনি। দিনের পর দিন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। বেশ কিছুদিন পর তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন তাঁর বাবা। কিন্তু মানসিকভাবে কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছিলেন না। গ্রামের লোকজনের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছিল প্রতিনিয়ত। নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সফল হননি। এরপর তিনি ফের মুম্বইতে আসেন তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে।

ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে শুরু করেন কল্পনা। জামাকাপড়ের কারখানায় কাজ করে টাকা পাঠাতেন বাবাকে। এরপর লোন নিয়ে শুরু করলেন নিজের টেলরিং ব্যবসা, তারপর আসবাবের দোকান। সিনেমার প্রোডাকশনও শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রোডাকশনের নাম কেএস প্রোডাকশন। এরপর রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আর তাঁকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বেশ পরিচিত না হয়ে ওঠে কল্পনা সরোজ। কামানি টিউব সংস্থাটি যখন অবস্থা খারাপ হয়ে যায় সেইসময় বোর্ডের সদস্য হিসেবে তাঁকে নেওয়া হয়। এরপর ওই সংস্থার লাভ হু হু করে বাড়তে শুরু করে। শিল্পপতি হিসেবে অবদানের জন্য ২০১৩ তে পদ্মশ্রী পান তিনি। ভারতীয় মহিলা ব্যাংকের বোর্ড অফ ডিরেক্টরও হন তিনি।

কল্পনার এই গল্পকে ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করাই যায়। তাঁর এই কাহিনিতে যেন আরও বেশি করে মহিলারা অনুপ্রাণিত হন আর সব বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন।