মুম্বই: বেশ কিছু দিন ধরেই আইসিআইসিআই ব্যাংকের চন্দা কোছারকে নিয়ে বিতর্ক চলছিল৷ এবার যেন তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরনোর পথই আরও প্রসস্থ হল ৷ ভিডিয়োকন গোষ্ঠীকে ঋণ দিয়ে তাঁর পরিবারের লোকেরা সুবিধা নিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ৷ তারই জেরে যেন আপাতত তাঁর জায়গায় এই ব্যাংক চালানোর লাগাম চলে গেল সন্দীপ বক্সীর হাতে৷

১৯৮৪ সালে আইসিআইসিআই ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেনি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন চন্দা৷ ২০০১ সালে তিনি ওই ব্যাংকের পরিচালক মন্ডলির সদস্য হন৷ এরপর ২০০৭ থেকে সংস্থার জয়েন্ট এমডি-র দায়িত্ব পান৷ সংস্থায় ২৫ বছর ধরে কাজ করে ২০০৯ সালে ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) পদে উন্নিত হন। তাছাড়া এই মহিলা পদ্মভূষণে ভূষিত হয়েছেন৷

Advertisement

সম্প্রতি ভিডিয়োকন গোষ্ঠীকে ৩২৫০ কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তার পরিবারের লোকেরা সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে চন্দা কোছারের বিরুদ্ধে। তারই জেরে এবার তাঁকে অনির্দিষ্টকালের কালের জন্য ছুটিতে যেতে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ৷ শুরু হয়েছে চন্দার বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ তদন্ত । সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ছুটিতে থাকতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয় তাঁর অনুপস্থিতিতে ব্যাংকের যাবতীয় কাজকর্ম সামলাবেন সন্দীপ বক্সী৷

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে জানায়, আইসিআইসিআই প্রুডেন্সিয়াল লাইফ ইনস্যুরেন্স-এর সিইও সন্দীপ বক্সীকে পাঁচ বছরের জন্য সংস্থার সিওও পদে নিয়েআসা হয়েছে । পাশাপাশি জানান হয়েছে চন্দার ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টিও ৷ তবে নতুন সিওও সন্দীপ বক্সীকে সমস্ত বিষয়ে চন্দাকেই রিপোর্ট করতে হবে। কারণ খাতায় কলমে চন্দাকে এখনও তাঁর পদ থেকে সরানো হয়নি।

প্রসঙ্গত অভিযোগ উঠেছে ভিডিওকনকে ৩২৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে আইসিআইসিআই ব্যাংক যাতে স্বার্থগত সংঘাত রয়েছে৷ ২০১২ সালে ২০টি ব্যাংকের কনসোট্রিয়াম যে ৪০,০০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল এটা তারই অংশ৷ অভিযোগ ২০১০ সালে বেণুগোপাল ধূত ৬৪ কোটি টাকা দিয়ে পুরোপুরি মালিকানাধীন নিউপাওয়ায় রিনিওবেলস প্রাইভেট লিমিটেড নামে সংস্থা গড়েন দীপক কোছার এবং তাঁর দুই আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে৷ তাছাড়া ওই ঋণ নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই ৯ লক্ষ টাকায় বেণু গোপাল ধূত তার মালিকানা হস্তান্তরিত করেন একটি ট্রাস্টের কাছে যার মালিক দীপক কোছার৷

----
--