জেনে নিন গণেশ চতুর্থীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রতীক্ষা আর কয়েক মুহূর্তের৷ এরপর দেশজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হবে গণেশ চতুর্থী৷ প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীর পুণ্য তিথিতে শুরু হয়ে যায় শ্রীগণেশ উৎসব৷ সনাতন ধর্ম মতে এটি গণেশের জন্মদিন৷ শিব ও পার্বতীর পুত্র গণেশকে হিন্দুরা সুখ সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা রূপে পুজো করেন৷

গণেশকে নিয়ে অনেক কাহিনী জনমানসে প্রচলিত আছে৷ তিনি সিদ্ধিদাতা গণেশ৷ তিনি বিঘ্নবিনাশী শ্রীবিনায়ক৷ গণেশের এই সব নামকরণের পিছনেও লুকিয়ে আছে নানা অজানা কাহিনী৷ জানেন কী গণেশের বৃশ্চিক লগ্ন ও বৃশ্চিক রাশি৷ লগ্নে তাঁর মঙ্গল৷ এই যোগ তাঁকে পরাক্রমশালী করে তোলে৷ লগ্নস্থানে শনি ও বৃহস্পতির পূর্ণদৃষ্টি রয়েছে৷ মঙ্গল, শনি ও বৃহস্পতির কারণে তিনি বিঘ্নবিনাশী৷ আবার শনির উপর রবির পূর্ণদৃষ্টি থাকার ফলে বাবার হাতে পুত্রের শিরোচ্ছেদ হয়৷ বুধ স্ব-রাশিস্থ৷ সেই কারণে গণেশ বুদ্ধি ও জ্ঞানের দাতা৷ তিনি বুদ্ধি প্রদানকারী৷

- Advertisement DFP -

যেকোনও পুজো পাঠের আগে পালন করতে হয় কিছু রীতি নীতি৷ গণেশ পুজোর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য৷ তাই এক নজরে জেনে নিন সেই নিয়ম কানুন৷

কীভাবে গণেশের মূর্তিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন?

এটা বলা হয়, গণেশ জন্মেছিলেন মধ্যহ্নকালে৷ তাই তাঁর মূর্তি মধ্যহ্নকালেই প্রতিষ্ঠিত করতে হয়৷ এই বছর গণেশ চতুর্থীর প্রথম দিন দুপুর ১২:৩০ থেকে ১:০০ পর্যন্ত সময়ে মূর্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে৷ অবশ্য এখন অনেকেই তার আগেই মূর্তি স্থাপন করে নেন৷ তবে এই দিন বিশেষ পুজো পাঠের আয়োজন করতে হয়৷ গণেশের মূর্তি এমন ভাবে বেদীতে বসাতে হবে যাতে সর্বক্ষণ সর্বদিক তাঁকে দেখতে পান ভক্তরা৷ মূর্তি বসানোর আগে জায়গাটি অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখতে হবে৷ বেদীতে কাপড় বিছিয়ে সেখানে চাল ছড়িয়ে রাখতে হয়৷

গণেশ পুজোর রীতি কি?

গণেশের মন্ত্র পাঠ করে পুরোহিত তাঁর মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন৷ এরপরই বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়৷ যেখানে ১৬টি পদ্ধতিতে গণেশকে প্রার্থনা করা হয়৷

গণেশের খুব প্রিয় লাড্ডু৷ এই দিন ভক্তরা লাড্ডু পরিবেশন করেন৷ এছাড়া গুড়, নারকেল, ময়দায় তৈরি খাবার থালায় সাজিয়ে দেন৷ এছাড়া লাল ফুল ও ২১টি দুর্বা পুজোয় দিতে হয়৷ গণেশের কপালে লাল চন্দনের তিলক দিতে হয়৷ বেদোচ্চারণ, গায়ত্রী মন্ত্র ও গণেশের স্তোত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয় পুজো৷

১১ দিন ধরে গণেশ উৎসব৷ গণেশ পুজোর শেষ দিন রঙিন শোভাযাত্রা করতে করতে তাঁর মূর্তিকে জলে বিসর্জন করা হয়৷

জনমানসে প্রচলিত আছে গণেশ চতুর্থীর দিন চন্দ্রের দিকে তাকাতে নিয়ে৷ এই নিয়ে একটি গল্প আছে৷ কথিত আছে কার্তিককে লুকিয়ে গণেশকে একটি ফল দিয়েছিলেন শিব৷ চন্দ্র সেটি দেখে ফেলে৷ এরপর শিব চন্দ্রকে অভিশাপ দেন চতুর্থীর দিন কেউ চাঁদ দেখবে না৷

Advertisement
----
-----