ডাম্পার-গ্যাস ট্যাঙ্কারের ধাক্কায় ভয়াবহ আগুন

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: দশ চাকার একটি পাথর বোঝাই ডাম্পারের সঙ্গে একটি গ্যাসের ট্যাঙ্কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ৷ নিমেষের মধ্যে ওই এলাকায় ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে৷ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল গোটা এলাকা৷ আগুন ছড়িয়েছিল সংলগ্ন এলাকায়৷ ঘটনাস্থল মহম্মদবাজার ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক৷ রামপুরহাটে যাওয়ার পথে ঘটনাটি ঘটে৷ দু’ঘণ্টার উপর যান চলাচল ব্যহত হয়৷

প্রসঙ্গত, গ্যাস ভরতি ট্যাঙ্কারের সঙ্গে পাথর বোঝাই লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে আগুন ধরে যায় ট্যাঙ্কারে। ঘটনাটি ঘটে মহম্মদবাজার থানা এলাকার ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। আগুন নেভাতে হিমশিম খায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। এর জেরে প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পরে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গ্যাস লিক বন্ধ করতে পারেনি দমকল বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পরায় ঘুরপথে যান চলাচল শুরু হয়ে যায়।

অন্যদিকে, জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা বলে কোনও প্রাণ হানি হয়নি বলে জানান দমকল অফিসাররা। তবে সংঘর্ষের জেরে দুই গাড়ির চালকের কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে ওই দুই গাড়ির। গ্যাস ভরতি ট্যাঙ্কারটি মহম্মদবাজার থেকে রামপুরহাটের পথে যাচ্ছিল। উল্টো দিক থেকে পাথর বোঝাই লরিটি মহম্মদবাজারের দিকে আসছিল। রায়পুর ও ডেউচার মাঝামাঝি এলাকায় দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে। তাতে গ্যাসের ট্যাঙ্কারটি লিক হয়ে যায়। এদিকে সংঘর্ষের জেরে দুটি লরির চাকা ফেটে যায়। একের পর এক চাকা ফেটে চলায় তাতে আগুন আরও ছড়াতে থাকে।

জঙ্গলে আগুন দেখেই তাঁতুলিয়া, রায়পুর, ডেউচা, রাওতাড়ার গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। গ্রামবাসী বুলবুল হোসেন, অনির্বান ঘোষ প্রমুখরা বলেন, ‘‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম জঙ্গলে আগুন ধরেছে। কিন্তু কাছে এসে দেখি গাড়ি জ্বলছে। দমকলের চারটি ইঞ্জিন টানা তিন ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সিউড়ির দমকল থেকে দুটি ইঞ্জিন ও রামপুরহাট এবং বোলপুর থেকে একটি করে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে।

সিউড়ি দমকলের ওসি সুপ্রিয় মন্ডল বলেন, ‘‘আমরা সকাল সাড়ে সাতটায় দুর্ঘটনার খবর পেয়েই চলে আসি। কিন্তু আগুনের যা তেজ ছিল তাতে ধারে কাছে যাওয়াই যাচ্ছিল না। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এদিকে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্যাঙ্কার থেকে ক্রমাগত গ্যাস লিক করায় প্রথমেই ওই পথে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এলাকার ধারে পাশে মোটর বাইক চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। গ্রাম গুলিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের আগে পর্যন্ত সাবধানে আগুন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।’’

তিনিন আরও বলেন, ‘‘এলাকায় ট্যাঙ্কার জ্বলতে দেখে জাতীয় সড়কের ওপর বহু লোক জমে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে বিড়ি সিগারেট সমেত অগ্নি সংযোগের যেন চেষ্টা না করা হয় বলে ঘোষণাও করা হয়।’’ এই প্রসঙ্গে সিউড়ি বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর দমকলের ফায়ার ইঞ্জিনিয়র পার্থ রায় বলেন, ‘‘আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গ্যাস লিক বন্ধ করা যাচ্ছিল না। তাই পাশের একটি পুকুর থেকে ক্রমাগত গাড়িটিতে জল দেওয়া হচ্ছিল৷ যাতে ট্যাঙ্কারটি গরম না হয়ে যায়। তবে সকালের এই অবরোধের জেরে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিউড়ি রামপুরহাট পথে জাতীয় সড়ক যান জটের জেরে বেসামাল হয়ে পড়ে। সাঁইথিয়ার পথে বেশিরভাগ গাড়িকে ঘুড়িয়ে দেওয়া হয়।’’

----
-----