বিস্ফোরণের ছক কষতে গিয়ে গ্রেফতার ‘গো-রক্ষক’

মুম্বই: স্বাধীনতার আগে আবারও দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এড়াতে পারল পুলিশ। মহারাষ্ট্র অ্যান্টি টেরর স্কোয়্যাড গ্রেফতার করল তিন জন ব্যক্তিকে। অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের উদ্দেশ্যে বোমা বিস্ফোরণের ছক কষেছিল এরা। পাশাপাশি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাদের যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর সীমান্তের একটি একতলা বাড়ি থেকে ২০টি তাজা বোমা ও বোমা তৈরির মশলা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া এই তিন জন ব্যক্তির মধ্যে দু’জন হিন্দু গোবংশ রক্ষা সমিতির ভৈরব রাওয়াত (৪০) ও তার সহযোগী শরদ কালাস্কর (২৫)কে নালাশোপাড়া থেকে বৃহস্পতি আটক করা হয়। এছাড়া আরও এক ব্যক্তি সুধানভ ঘোন্ডালেকর (৩৯) যিনি নিজেকে ব্যবসায়ী বলে দাবি করেন পুলিশ তাকে পুনে থেকে আটক করে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, রাওয়াত দীর্ঘদিন ধরে সনাতন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। যা একটি জঙ্গি সংগঠন হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সনাতন নেতাদের সঙ্গেও তাকে এক মঞ্চে দেখা গিয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষ না করলে রাওতের অতীত যোগসূত্র সম্পর্কে সঠিক ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে নরেন্দ্র ডাবোলকর, গোবিন্দ পানসারে এবং এম এম কালিবুরগির হত্যা কান্ডের সাথে তার যোগসূত্র থাকতে পারে। কংগ্রেস আরও দাবি করে, সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

- Advertisement -

রাজ্যের অ্যান্টি টেরর স্কোয়ারডের প্রধান অতুলচন্দ্র কুলকারনি জানিয়েছেন, ‘আমরা তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইপিসি-র অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে যোগ, ইউএপিএ-র মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে ও অন্যান্য ধারায় মামলা রজু করেছি।’ অ্যান্টি টেরর স্কোয়াডের অন্য এক অফিসার জানিয়েছেন, এই অভিযোগের পাশাপাশি তারা বিস্ফোরক দ্রব্য রাখার অভিযোগেও অভিযুক্ত। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত তাদের পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে।

সূত্রের খবর বেশ কয়েকমাস থেকেই পুলিশ রাওতের উপর নজর রেখেছিল। বৃহস্পতি ভোর চারটে নাগাদ পুলিশ রাওতের ভান্দারলির বাড়িতে পৌঁছয় এবং সেদিন সন্ধ্যেবেলা এটিএস অফিসার সহ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল, বম্ব ডিটেকশন ও ডিসপোজাল টিম (বিডিডিএস) এবং গোয়েন্দা কুকুর নিয়ে হানা দেয় তারা। শুক্রবার সকালে রাওয়াত কে গ্রেফতার করে পুলিশ। বেশ কিছু বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার করে।

একজন অফিসার জানিয়েছেন, ‘আমরা খবর পাই একটি দল রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু ধ্বংসাত্বক কাজ করতে চাইছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য। আমরা একটি সিম কার্ডের সূত্র ধরে এগোই। প্রাথমিক তদন্তের পর আমরা জানতে পারি সিমটি যার নামে কেনা তিনি সেটি ব্যবহার করেন না। এরমই আরও বেশ কিছু সিম কার্ডের হদিশ পাই আমরা।’

মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড় হিন্দু জাগ্রতি সমিতির রাজ্য আহ্বায়ক সুনীল গানভট্ট বলেন, রাওয়াত একজন গো-রক্ষক হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আগেও অনেক অভিযোগ রয়েছে। এটিএস সূত্রে খবর, রাওতের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে তার সোশ্যাল মিডিয়া অয়াকাউন্ট গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ফোনটি সিজ করা হয়েছে এবং সেটি সাইবার বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হবে। এদের সাথে আরও কেউ যুক্ত আছে কিনা তার হদিশ করছে পুলিশ।

Advertisement
-----