মেমারির একটি মামলায় রোজভ্যালি কর্তার জামিন

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: বর্ধমানের মেমারি থানা এলাকার একটি মামলায় জামিন পেলেন চিটফান্ড কাণ্ডে ধৃত রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডু৷ এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে রোজভ্যালি কর্তার জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা।

শুনানিতে রোজভ্যালি কর্ণধারের আইনজীবী বলেন, ‘পুলিশ ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ করেছে আদালতে৷ গৌতম কুণ্ডুকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই৷ পুলিশ সরকারি অর্থ আত্মসাতের(আইপিসি ৪০৯) ধারায় চার্জশিট পেশ করলেও এক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। কারণ, সরকারি অর্থ আত্মসাত হয়নি। অভিযুক্ত সরকারি কর্মীও নন।’ সরকারি আইনজীবী এর বিরোধীতা করেন৷ সওয়াল জবাব শেষে সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা গৌতম কুণ্ডুর জামিন মঞ্জুর করেন৷

আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইকের ধাক্কা গাছে, নিহত ১

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারি থানার বাগিলার বাসিন্দা দিন মজুর অমর ক্ষেত্রপাল ২০১০ সাল থেকে রোজভ্যালির মেমারি শাখায় প্রতি মাসে ৪২০ টাকা করে জমা করেন। সংস্থার তরফে তাঁকে রোজভ্যালি রিয়েল এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের শংসাপত্র দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে রাজ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই অমর মেমারি রোজভ্যালির অফিসে টাকা তুলতে গেলে তাঁকে শংসাপত্রটি জমা করতে বলা হয়। সেই মতো সংস্থার অফিসে তা জমা করেন তিনি৷ তারপর টাকা ফেরত না দিয়ে নানা অছিলায় তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ এরপর মেমারি থানায় প্রতারণার অভিযোগ করেন অমর ক্ষেত্রপাল।

অমরবাবুর অভিযোগ থানা কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে ২০১৬ সালের ২৭ জুন বর্ধমান সিজেএম আদালতে রোজভ্যালির বিরুদ্ধে তাঁর জমানো টাকা ফেরতের দাবিতে মামলা করেন তিনি। সিজেএম তদন্তের জন্য মেমারি থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। তদন্তে নেমে পুলিশ সংস্থার এজেন্ট উত্তম কুমার বাগকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের অনুমতিক্রমে কলকাতার এসএসকেএম গিয়ে রোজভ্যালি কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেন তদন্তকারী অফিসার রামেশ্বর মাহাত। তদন্ত সম্পূর্ণ করে চার্জশিট পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার।

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের

কিন্তু এতদিন, ইডি, সেবি ও সিবিআইয়ের বিভিন্ন মামলার জটে অমর ক্ষেত্রপালের দায়ের করা মামলার শুনানিতে গৌতম কুণ্ডুকে বর্ধমান আদালতে হাজির করা যাচ্ছিল না। সোমবার আদালতে পেশ করা হয় রোজভ্যালি কর্তাকে৷ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম৷

এই মামলায় জামিন পেয়ে ধৃত গৌতম কুণ্ডু বলেন, ‘‘রোজভ্যালির যা সম্পত্তি আছে তা বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত পেতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। হাইকোর্ট কমিটি গড়েছে। কমিটির কাছে সংস্থার সম্পত্তির হিসাব দেওয়া হয়েছে। সংস্থার সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরানো যাবে।’’

আরও পড়ুন: লিলুয়ায় প্রহৃত বিজেপি কর্মী, অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে

তাঁর ব্যবসার এই অবস্থার জন্য সারদার বিপর্যয়কে দায়ী করেছেন রোজভ্যালি কর্তা। তিনি বলেন, ‘‘সারদার বিপর্যয়ের পরই আমানতকারীরা টাকা তোলা শুরু করেন। রাজ্যজুড়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ব্যাবসায় বিনিয়োগ করা টাকা চাহিদামতো আমানতকারীদের ফেরানো সম্ভব হয়নি। তার জন্যই রোজভ্যালির ব্যাবসায় বিপর্যয় নেমে আসে।’’

সারদা রোজভ্যালির মতো বেআইনী অর্থ লগ্নিকারী সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ বিরোধীদের৷ তবে এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি ধৃত রোজভ্যালি কর্ণধার গৌতম কুণ্ডু৷

Advertisement
----
-----