স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: স্কুলের শৌচাগার থেকে বেরিয়েই ছাত্রীদের কেউ অসুস্থ, কেউবা আবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছে। গত কয়েকদিন ধরেই এমনই আজব কান্ড ঘটছে বাঁকুড়ার কোতুলপুরের মির্জাপুর হাইস্কুলে।

ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে গুজব, স্কুলের ঐ শৌচালয়ে নাকি গলা কাটা মৃতদেহ ঝুলছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে হাজারো তল্লাশি চালিয়েও শৌচাগারটিতে কোনও অস্বাভাবিক কিছু মেলেনি বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের৷

স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে খবর, গত শুক্রবার দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী ঐ শৌচাগার থেকে ফিরে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে দাবি করে কিছু একটা ছিল ঐ শৌচাগারে। তারপর স্কুলের বেশ কয়েকজন ছাত্রী একই কথা বলে অসুস্থ হয়৷ স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে ১৬ জন ছাত্রীকে স্থানীয় কোতুলপুর গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে শনিবার একটি মেডিক্যাল টিম স্কুলে আসে। স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। শৌচাগারটিও ঘুরে দেখেন৷ যদিও অস্বাস্থ্যকর কিছু সেখানে মেলেনি বলে দাবি ঐ মেডিক্যাল টিমটির৷তবে টিমটির উপস্থিতিতেও কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কুলের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায়।

মেডিক্যাল টিমের সদস্যদের ধারণা কোনও গুজবের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকতে পারে। সে কারণেই এই ঘটনা ঘটছে। স্কুলের পক্ষ থেকে এদিন ছাত্রীদের কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করা হয়।

প্রধান শিক্ষক মহানন্দ কুণ্ডু বলেন, হঠাৎ করে ছাত্রীদের মধ্যে এধরণের আতঙ্ক কেন দেখা দিল বুঝতে পারছিনা। সম্ভবত কোন গুজব ছড়িয়ে থাকতে পারে। যে শৌচাগারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটছে তা আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি।তবে সন্দেহজনক কিছুই পাইনি। এ বিষয়ে বিজ্ঞানকর্মীদের এনে ছাত্র ছাত্রীদের আতঙ্ক দূর করার চেষ্টা করা হবে বলে আজ জানান তিনি৷

----
--