লাইসেন্স ছাড়াই বিক্রি চলছে মরা ছাগলের মাংস

শংকর দাস, বালুরঘাট: দীর্ঘ দিন ধরে নেই কোন লাইসেন্স। অথচ দেদারে বিক্রি চলছে মরা ছাগলের মাংস। লাইসেন্স বিহীন অবস্থায় পঁচা মাংস বিক্রি হয়ে আসলেও খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও পুরসভা কারোই তা নজরে আসেনি।

মঙ্গলবার সিপিডব্লিউডি’র এক ইঞ্জিনিয়ার বিষয়টি নিয়ে সরব হতেই শুরু হয়েছে হৈচৈ। বালুরঘাটের একটি দোকানে পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

স্থানীয় সাড়ে-তিন-নম্বর মোর এলাকার একটি দোকান থেকে মাংস কিনে রান্না করতে নিয়ে নজরে আসে ইঞ্জিনিয়ার অজয় চন্দ্রার। সকালে পঁচা ও দুর্গন্ধ যুক্ত মাংস নিয়ে সোজা দোকানে গিয়ে অভিযোগ জানান। বিক্রেতা তাতে পাত্তা না দিতে চাইলে শুরু হয় উত্তেজনা। ভিড় জমে যায় পথচারী ও আশপাশের লোকজনের। শুরু হয় বিক্ষোভ। ঘটনাস্থলে বালুরঘাট থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

- Advertisement -

বালুরঘাট শহরের খাদিমপুর এলাকার আবাসিক সিপিডব্লিউডি’র ইঞ্জিনিয়ার অজয় চন্দ্রা জানিয়েছেন, সোমবার রাতে সাড়ে-তিন-নম্বর মোর এলাকার দোকান থেকে এক কেজি পাঁঠার মাংস কিনেছিলেন। বাড়ি নিয়ে গিয়ে রান্না করতে নিলে পঁচা দুর্গন্ধ ছেয়ে যায় এলাকা। রাতেই সেই মাংস নিয়ে দোকানে এসে দেখেন তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সকালে যথারীতি দোকানে এলে বিক্রেতা উলটে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে তাঁর অভিযোগ।

সেই সঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও একবার সকালে মাংস কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন। দুপুরে রান্না করে খেতে বসলে কটু গন্ধ পেয়েছিলেন। সেই বার ভেবে ছিলেন হয়ত দেরিতে রান্না করার জন্য তা পঁচে গিয়ে থাকতে পারে।

যদিও পঁচা মাংস বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাংস বিক্রেতা ছোটন বালা। মরা ছাগলের মাংস তাঁর দোকানে বিক্রি হয়না বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে কাটা মাংস বিক্রির পুরসভার কোনও লাইসেন্স তিনি এদিন দেখতে পারেন নি।

এদিকে বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান রাজেন শীল জানিয়েছেন, সাড়ে-তিন-নম্বর মোর এলাকার ওই দোকানটির মাংস বিক্রি সংক্রান্ত কোনও লাইসেন্সই নেই। সোমবার সকালেই মরা মাংস বিক্রির কথা লোক মুখে তিনি শুনেছেন। এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি একথাও জানান যে লাইসেন্স বিহীন মাংসের দোকান গুলির বিরুদ্ধে শীঘ্রই পুরসভার পক্ষ থেকে অভিযান শুরু করা হবে।

Advertisement ---
---
-----