গোধরাকাণ্ডে ২ দোষীর যাবজ্জীবন, বেকসুর খালাস ৩

নয়াদিল্লি : ২০০২ সালে গোধরায়- সবরমতী এক্সপ্রেসে আগুন লাগানোর ঘটনায় সাজা ঘোষণা করল বিশেষ সিট আদালত৷ প্রায় ১৬ বছর আগে গুজরাটের গোধরা শহরের সবরমতি এক্সপ্রেসের কামরায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৫৯জনের মৃত্যু হয়৷ তারপরেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে৷ এই ঘটনায় ২০১৫-১৬ সালে ৫ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷

আজ বিশেষ সিট আদালত এদের মধ্যে দোষী দুই অপরাধীর যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেছে৷ অপর তিনজনকে বেকসুর খালাস করা হয়েছে৷ ২০০২–এর ২৭ ফেব্রুয়ারি অযোধ্যা থেকে ফেরার পথে সবরমতী এক্সপ্রেসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এস–৬ কামরায় থাকা ৫৯ জন যাত্রীই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। যাঁদের মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের সকলেই ছিলেন কর সেবক। ঘটনায় যুক্ত ৯৪ জনের সবাই ছিলেন মুসলিম৷ ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সবরমতী এক্সপ্রেসে চেপে অযোধ্যায় রামমন্দিরের জন্য করসেবা সেরে ফিরছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একদল সাধু ও ভক্ত।

পড়ুন:বলা বারন অমিত শাহের নিরাপত্তার খরচ !!

হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে অযোধ্যা থেকে ফেরার সময় একদল মুসলিম তাঁদের উপর হামলা চালায়, এবং ট্রেনটি জোর করে থামিয়ে একটি বগিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গুজরাট৷ শুরু হয় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ৷ গোধরাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। ২০১১–র পয়লা মার্চ থেকে শুরু হয় তদন্ত। সেই ঘটনায় জড়িত থাকায় ৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে বিশেষ আদালত। তথ্য প্রমাণের অভাবে ৬৩ জনকে বেকসুর খালাস করে।

দোষী সাব্যস্ত ৩১ জনের মধ্যে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছিল। বাকিদের দেওয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তাঁদের মধ্যেই কয়েকজন সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেছিল। সেই মামলাতেই আজ এই রায় দিয়েছে আদালত।

ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং পরবর্তী অশান্তির বিভিন্ন ঘটনায় ৩ দিন ধরে গুজরাট জুড়ে প্রাণ যায় ৭৯০ মুসলিম ও ২৫৪ হিন্দুর৷ ঘর ছাড়তে বাধ্য হন এক লক্ষ মুসলিম ও ৪০ হাজার হিন্দু৷ এখনও নিরুদ্দেশ ১৩০ জন।

Advertisement
----
-----