‘ভালো বিজেপি’র জন্য নেতৃত্ব বদল করতে শপথ নিলেন ‘ভালো’ নেতা-কর্মীরা

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘ভালো বিজেপি’র প্রত্যাশায় এ বার আন্দোলন জারি রাখার জন্য শপথ গ্রহণ করলেন খোদ গেরুয়া শিবিরেরই ‘ভালো’ নেতা-কর্মীরা৷ আর, এই আন্দোলন জারি রাখার অঙ্গ হিসাবে, আগামী ২৪ জুলাই বিজেপির ‘ভালো’ নেতা-কর্মীদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজনও করা হয়েছে৷

সম্প্রতি কখনও নদিয়া কখনও আবার উত্তর ২৪ পরগনায় গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে৷ তবে, শুধুমাত্র এই জেলায়ও নয়৷ পশ্চিমবঙ্গের গেরুয়া শিবিরের অন্য বিভিন্ন অংশেও বিভিন্ন সময় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভের বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে৷ যার জেরে, মাস দুই আগে রাজ্য বিজেপিকে বাঁচাতে ‘সেভ বেঙ্গল বিজেপি’র আত্মপ্রকাশও ঘটেছে৷ আর, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই এ বার বাঁকুড়ায় প্রকাশ্যে এসেছে বিজেপির নেতৃত্বের প্রতি দলেরই বহু নেতা-কর্মীর ক্ষোভ৷

আরও পড়ুন: সেভ বেঙ্গল বিজেপি’

- Advertisement -

তবে, শুধুমাত্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও নয়৷ যত দিন না বিজেপির নেতৃত্বে পরিবর্তন হচ্ছে, যত দিন না ‘ভালো বিজেপি’র দিন আসছে পশ্চিমবঙ্গে, তত দিন পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখার জন্য বাঁকুড়ায় বিজেপির বেশ কয়েক জন নেতা-কর্মী শপথ গ্রহণও করেছেন৷ এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন রেল মন্ত্রকের অধীনে থাকা প্যাসেঞ্জার অ্যামেনিটিস কমিটির এক সদস্য৷ এই শপথ গ্রহণের সময় গেরুয়া শিবিরের বাঁকুড়ার ওই সব নেতা-কর্মীর বক্তব্যে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের অপসারণের বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে৷ গত মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই এই শপথ গ্রহণ করেছেন বাঁকুড়া জেলার যে সব নেতা-কর্মী, তাঁদের মধ্যে বিজেপির এই জেলা কমিটির বেশ কয়েকজন পদাধিকারীও রয়েছেন৷

আরও পড়ুন: বাংলার শিশুকন্যাদের বাঁচাতে ‘অ্যাক্টিভ ট্র্যাকার’ চালুর জন্য রাজ্যপালের দ্বারস্থ বিজেপি

যদিও, এই শপথ গ্রহণের বিষয়ে বিজেপির বিক্ষুব্ধ এই অংশের তরফে এখন দাবি করা হচ্ছে, দিলীপ ঘোষের অপসারণের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়নি৷ শুধুমাত্র বাঁকুড়ায় বিজেপির সভাপতি এবং রাজ্য বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই জেলার এক নেতার অপসারণের কথা বলা হয়েছে৷ এই ধরনের দাবির সমর্থনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, রাজ্য বিজেপি নয়, শপথ গ্রহণ করা নেতা-কর্মীদের কাছে বাঁকুড়ায় বিজেপির নেতৃত্বের পরিবর্তনের বিষয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷ কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ? তার কারণ হিসাবে জানানো হয়েছে, আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হবে বলে বিজেপির বিক্ষুব্ধ এই অংশ মনে করছে৷ যার জেরে, প্রশাসনের মদতে নিরপেক্ষ ভোট হবে না বলেও এই অংশের আশঙ্কা রয়েছে৷

আরও পড়ুন: বাংলার মেয়েদের সুরক্ষায় প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছচ্ছে বিজেপি

অথচ, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির প্রয়োজন৷ সংগঠন মজবুত না থাকলে লড়াই করতে পারবে না বিজেপি৷ এ দিকে, সংগঠন বৃদ্ধির অঙ্গ হিসাবে বাঁকুড়ায় বিজেপির সঙ্গে অনেকে আসতে চাইছেন, অনেকে সমর্থনও করতে চাইছেন৷ কিন্তু, বিজেপির ওই দুই নেতার জন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠন মজবুতের কাজ করা যাচ্ছে না বলেই বিক্ষুব্ধ ওই সব নেতা-কর্মীর তরফে অভিযোগ৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ শপথ গ্রহণ করা বাঁকুড়ার ওই সব নেতা-কর্মীর তরফে জানানো হয়েছে, এই জেলা থেকে দলের ‘বিস্তারক যোজনা’র ভুল তথ্য পেশ করা হচ্ছে৷ বহু বুথে যেতে পারেননি বিজেপির নেতা-কর্মীরা৷ অথচ, পেশ করা তথ্যে জানানো হচ্ছে যে, ওই সব বুথে যাওয়া হয়েছে৷ যার জেরে আখেরে বিজেপিরই ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে৷

আরও পড়ুন: বাংলার আম আদমির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাজ্য জুড়ে বিজেপির কন্ট্রোল রুম

যদিও, বিজেপির এক সূত্রের কথায়, ‘‘রাজ্য সভাপতি এবং দলের এক সাধারণ সম্পাদকের অপসারণের দাবিতেই বাঁকুড়ায় এই শপথ গ্রহণ হয়েছে৷ কিন্তু, এই বিষয়টি জানার পরে রাজ্য বিজেপির এক সম্পাদকের মাধ্যমে শপথ গ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়৷ তার পরেই হয়তো শপথ গ্রহণ করা নেতা-কর্মীরা জেলা সভাপতি এবং রাজ্য বিজেপির এক সাধারণ সম্পাদকের অপসারণের কথা বলছেন৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷ রাজ্য বিজেপির এক সূত্র বলেন, ‘‘২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য বিজেপির অন্য এক সম্পাদককে যাতে বাঁকুড়ায় প্রার্থী করা যায়, তার জন্য চেষ্টা চলছে৷ যার জেরে হয়তো রাজ্য বিজেপির ওই সাধারণ সম্পাদকের অপসারণের বিষয়টি তোলা হচ্ছে৷ কারণ, এই সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে দিতে না পারলে ওই সম্পাদককে বাঁকুড়ায় প্রার্থী করা সম্ভব হবে না৷’’

আরও পড়ুন: ‘চক্রান্ত’ রুখে ‘মিশন বাংলা’য় বাঙালির রাজনৈতিক দল বিজেপি

একই সঙ্গে এই সূত্র বলেন, ‘‘বাঁকুড়ায় বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি রয়েছে, তাতে এখানে বিজেপি প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা প্রবল৷ পরিস্থিতি এমনই যে, এখন লোকসভা নির্বাচন হলে বাঁকুড়ায় জয়লাভের জন্য বিজেপিকে খুব বেশি কিছু করতে হবে না৷’’ এ দিকে, বাঁকুড়ার বিক্ষুব্ধ ওই সব নেতা-কর্মীর তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই তাঁরা আবার বৈঠক করবেন৷ এবং, এই বৈঠকের পরে তাঁদের ক্ষোভের বিষয়টি রাজ্য বিজেপির সভাপতিকে জানানো হবে৷ বিজেপির বিক্ষুব্ধ ওই সব নেতা-কর্মী যে রাজ্য সভাপতির অপসারণ চাইছেন না, দিলীপ ঘোষকে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে৷

আরও পড়ুন: ‘মিশন বাংলা’য় রক্তদানেও মানুষের পাশে থাকতে চাইছে বিজেপি

তবে, শুধুমাত্র গত ১৮ জুলাইয়ের শপথ গ্রহণ এবং ২০ জুলাইয়ের এই বৈঠকও নয়৷ বিজেপির কমিটি অর্থাৎ, নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন জারি রাখার অঙ্গ হিসাবে আগামী ২৪ জুলাই জেলার বিজেপির ‘ভালো’ নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাঁকুড়ার একটি লজে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে বলে শপথ গ্রহণকারীদের তরফে জানানো হয়েছে৷ বিক্ষুব্ধ ওই সব নেতা-কর্মীর তরফে জানানো হয়েছে, বিজেপির এই সব ‘ভালো’ নেতা-কর্মীর মধ্যে যেমন পুরোনোরা রয়েছেন, তেমনই নতুনরাও আছেন৷ ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে যাঁরা দলকে ভালোবাসেন, বাঁকুড়ায় বিজেপির সেই সব ‘ভালো’ নেতা-কর্মীরাই ২৪ জুলাইয়ের ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে৷ এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, তিনি ফোন কল না ধরায় তাঁর বক্তব্য মেলেনি৷

আরও পড়ুন: মিশন বাংলা’য় কামদুনিতে সূচনা হচ্ছে বিজেপির ‘বিস্তারক যোজনা’

Advertisement ---
---
-----