‘গোর্খাল্যান্ড’ চাওয়া দার্জিলিং থেকেই মমতাকে প্রধানমন্ত্রিত্বের আগাম শুভেচ্ছা

শেখর দুবে, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর যে সমস্যাগুলি মমতা সরকারকে সবচেয়ে চাপে ফেলেছিল তার অন্যতম হল ‘গোর্খাল্যান্ড’৷ দার্জিলিং সন্নিহিত অঞ্চলের গোর্খা সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষজন বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে ‘গোর্খাল্যান্ডের’ দাবিতে মমতা সরকারের চরম বিরোধিতা করে আসছে৷ খুনের মামলা সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সম্প্রতি গা ঢাকা দিয়েছেন বিমল৷ তারপর কিছুটা হলেও শান্ত পাহাড়৷

পাহাড়ের অশান্তি সরিয়ে কিন্তু একদম অন্যরকম চিত্র ধরা পড়ল ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেডে ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে প্রধানমন্ত্রী হন তার জন্য শুভকামনা জানাতে বিশেষ আঞ্চলিক নৃত্য নিয়ে ব্রিগেডে আসলেন দার্জিলিংয়ের একদল গোর্খা সম্প্রদায়ের মানুষ৷

নানা রকমের মুখোশ পরে বিশেষ গোর্খা নৃত্য দল নিয়ে দার্জিলিং থেকে ব্রিগেডে আসা গঞ্জু তামাংয়ের বক্তব্য, দিদি পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন৷ তাই আমরা ব্রিগেডে ওনাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি৷ আমরা চাই উনি প্রধানমন্ত্রী হোন, তাহলে পাহাড়ের আরও উন্নয়ন হবে৷’’ বিশেষ পাহাড়ি নাচ পরিবেশনের মাধ্যমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবেন বলেও তামাং জানান৷

লোকসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি সরকার যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চেয়েছিলেন তা অনেকাংশেই সফল। ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের মঞ্চের দিকে তাকিয়ে দেখলে এটা যে কেউ বলে দেবে৷ এম কে স্টালিন, এইচ ডি দেবেগৌড়া, ফারুখ আবদুল্লা, অখিলেশ যাদব, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অর্জুন খাড়গে,তেজস্বী যাদবের মতো নেতারা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন, এ দৃশ্য শেষ চার দশকে বাংলার রাজনীতি দেখেনি। সেরকমই দার্জিলিং থেকে গোর্খা সম্প্রদায়ের মানুষের ব্রিগেডে উপস্থিতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বাড়তি সুখবর বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷