উপাচার্য ও সহ উপাচার্য এলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন রাজ্যপাল

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: উপাচার্য ও সহ উপাচার্য এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি৷ বৃহস্পতিবার যাদবপুরের উপাচার্য ও সহ উপাচার্যের পদত্যাগ প্রসঙ্গে এমনই বললেন তিনি৷

এ ছাড়া, জোর করে কোনও কিছুই চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্যও করেছেন তিনি৷
এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপাল বলেন, ‘‘উপাচার্য কর্মসমিতির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন৷ কর্মসমিতি প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য কিছু নিয়ম তৈরি করেছে৷’’ তবে, সব বিভাগেই প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া উচিত কি না সেই সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চাইলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘‘এটা আমার বলার বিষয় নয়৷ এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কর্মসমিতি৷’’

গত মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসমিতির প্রবেশিকা পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমতুল্য পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ৫০-৫০ অনুপাতে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে৷ কিন্তু কর্মসমিতির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত পোষণ করেননি উপাচার্য সুরঞ্জন দাশ ও সহ উপাচার্য প্রদীপকুমার ঘোষ৷ আর যেহেতু তাঁরা সহমত পোষণ করেননি তাই রাজ্যপালের কাছে অব্যাহতি চাইবেন বলেও মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন তাঁরা৷ জানা যায়, বুধবারই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন তাঁরা৷ কিন্ত, তারপর থেকে দু’দিন কেটে গেলেও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা করেননি উপাচার্য ও সহ উপাচার্য৷

- Advertisement -

বুধবার এবিষয়ে রাজ্যপাল জানিয়েছিলেন, যাদবপুরের উপাচার্য বা সহ উপাচার্য যে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, এমন কোনও খবর রাজভবনের কাছে আসেনি৷ যদিও, আজকে তিনি জানালেন, উপাচার্য ও সহ উপাচার্য তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এলে তিনি কথা বলবেন৷ আর কোনও কিছুই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে না৷
তবে, রাজ্যপালের এই মন্তব্যে উপাচার্য পদত্যাগ করছেন কি না সেই বিতর্কের অবসান হল না৷ ভরতি প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার দাবিতে ছাত্রদের ঘেরাও-এ আটকা পড়েন সুরঞ্জন দাশ৷

ঘেরাও মুক্ত হওয়ার পরের দিন তিনি প্রথমে শিক্ষামন্ত্রী ও তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ জানা গিয়েছে, বৈঠকের সময় ‘অগণতান্ত্রিক চাপে কাজ করা অসম্ভব’ জানিয়ে রাজ্যপালের কাছে তখনই পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু, রাজ্যপাল তখনই কোনও সিদ্ধান্ত না নিতে বলেছিলেন উপাচার্যকে৷

তারপর থেকেই জল্পনা কল্পনা তুঙ্গে উঠে যে উপাচার্য কি তাহলে পদত্যাগ করছেন৷ এই জল্পনা কল্পনা আরও গতি পায় যখন উপাচার্য প্রথমবার অনশনরত পড়ুয়াদের মুখোমুখি হন৷ তিনি ছাত্রদের বলেন, ‘‘তোমাদের আমায় আর বেশি দিন দেখতে হবে না৷ আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম৷ কিন্তু, আমি ব্যর্থ হয়েছি৷ তোমরা আমার থেকেও ভালো উপাচার্য পাবে৷’’

স্বাভাবিকভাবেই উপাচার্যের এই মন্তব্যে তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনা আরও বেশি বেড়ে যায়৷ এই সম্ভাবনা নিশ্চিত বলে মনে হয় ১০ জুলাই কর্মসমিতির বৈঠকের পর তাঁর অব্যাহতি চাওয়ার মন্তব্য৷ কিন্তু, এখনও পর্যন্ত উপাচার্য বা সহ উপাচার্য কেউই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেননি এবং পদত্যাগের আর্জিও জানাননি৷ তাই গোটা বিষয়টি নিয়ে এখনও অব্যাহত রইল জল্পনা৷

Advertisement ---
---
-----