নয়াদিল্লি: থিয়েটার কমান্ড গড়ার দিকে একধাপ এগোল মোদী সরকার। স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনাকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে বিধিবদ্ধ নিয়ম ও নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে কোনও একটি বাহিনীর অফিসার অন্য বাহিনীর সদস্যদেরও প্রয়োজনে সরাসরি কমান্ড করতে পারবেন।

এই নীতি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে আন্দামান-নিকোবরের জন্য। কারণ এই অঞ্চল ভারতের কাছে কূটনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেখানে তিন বাহিনীর একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। আন্দামানেই ২০০১ সালে প্রথম থিয়েটার কমান্ড তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে এই পরিকল্পনা সফলভাবে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়নি।

Advertisement

এক আধিকারিকের কথায়, ‘সাধারণভাবে এটা একটা ছোট পদক্ষেপ মনে হলেও, আদতে ভারতের মিলিটারি সিস্টেমে এটা একটা বড় পরিবর্তন।’ অদূর ভবিষ্যতে ভারতে আর্মি, নেভি ও এয়ার ফোর্সের একজন প্রধান থাকবেন বলেও জানান তিনি। এর ফলে তিন বাহিনীর সব সম্পদ একজন থ্রি-স্টার অফিসারের অধীনে থাকবে।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতেই এই থিয়েটার কমান্ড গঠনের উদ্যোগে গ্রিন সিগন্যাল দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সামনে পেশ করা হয় সেই বাহিনীর পুরো পরিকল্পনার প্রেজেন্টেশন। সেখানেই বলা হয়, একজন কমান্ডারের অধীনে থাকবে আর্মি, এয়ারফোর্স ও নেভির জওয়ানেরা। দেশের তিন বাহিনীর মধ্যে সংযোগ আরও বাড়াতে এই থিয়েটার কমান্ড তৈরি করার কথা ভাবা হয়। সম্প্রতি, আমেরিকা ও চিনের সেনাবাহিনীতেও একই ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কিভাবে কাজ করবে এই বিশেষ কমান্ড? সূত্রের খবর, গোটা দেশকে চার থেকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করে নেওয়া হবে। প্রত্যেকটি অঞ্চলের জন্য থাকবে একটি করে কমান্ড। সেই কমান্ডের পরিচালনা করবেন কোনও সিনিয়র মিলিটারি অফিসার, তিনি যেকোনও একটি বাহিনী থেকে হতে পারেন। ভারতের ক্ষেত্রে যে অংশে ভাগ করা হতে পারে সেগুলি হল, পাক-চীন সীমান্তের পার্বত্য অংশ, পাক সীমান্তের সমতল ও মরু অংশ, দক্ষিণ অংশ, চিন সীমান্ত ইত্যাদি। দক্ষিণের দায়িত্বে থাকতে পারেন কোনও নেভি অফিসার।

২০১৫ তে চিনে তৈরি হয়েছে থিয়েটার কমান্ড। গোটা দেশে ছ’টি থিয়েটার কমান্ড রয়েছে। আবার আমেরিকার ক্ষেত্রে কয়েকটি দেশ নিয়ে একেকটি কমান্ড তৈরি হয়েছে।

----
--