পূর্ব বর্ধমান: হাট বসেছে মঙ্গলবারে, বর্ধমানে কৃষিবাজারে৷ একেবারে আদ্যোপান্ত গ্রামের হাট যেমনটা হয়৷ কৃষকবাজারে এবার থেকে বসবে গ্রামীণ হাট৷ আপাতত সপ্তাহে দু’দিন বসবে হাট৷ বাজার ভালো হলে হাটের দিন আরও বাড়াতেও পারেন উদ্যোক্তারা৷ প্রথমদিনে বিকিকিনি মন্দ হয়নি, জানালেন হাটে আসা চাষীরা৷ বর্ধমান-১ ব্লকের রায়ান-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন জেলা কৃষিখামারের কৃষক বাজারেই চালু হল গ্রামীণ হাট৷

তবে হাটটি নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিতর্কও শুরু হয়েছে৷ প্রশাসনের কাছে এই হাট চালুর বিষয়ে নাকি আগাম কোনও খবরই ছিল না বলে সূত্রের খবর৷ বর্ধমান-১ ব্লকের বিডিও থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাঁরা এ ব‌্যাপারে কিছুই জানেন না বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর৷ তবে পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ অবশ্য জানান মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এই হাট চালু হল৷

কৃষকবাজারে নিউ মার্কেটের সভাপতি অশোক ঘোষ জানিয়েছেন, এদিন প্রায় ৬৫ জন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ হাটে অংশ নিয়েছেন৷ গ্রামীণ হাটের চরিত্র বজায় রেখেই কাঁচা সবজি থেকে সমস্ত ধরনের জিনিসই এই হাট থেকে পাওয়া যাবে৷ আপাতত প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শনিবার দুপুর ২টো থেকে এই হাট বসবে৷ জনগণের চাহিদা অনুসারে এই হাটের দিনও বাড়ানো হবে৷

বর্ধমান-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ অনুপকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এলাকার মানুষের সুবিধার্থে এই হাট চালু করা হয়েছে৷ এর ফলে এলাকার আর্থ সামাজিক অবস্থার একটা পরিবর্তন হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ অন্যদিকে, মঙ্গলবার এই হাট পরিদর্শন করতে আসেন বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশীথকুমার মালিক৷

বিধায়ক জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত কিষাণমাণ্ডিগুলিকে পুরোদমে চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ বর্ধমান-১ ব্লকের এই কৃষক বাজারকেও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল জেলাপ্রশাসনের তরফে৷ কিন্তু নানা কারণেই তা বাধাপ্রাপ্ত হয়৷ অবশেষে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে কৃষক বাজারে অস্থায়ী দোকান চালুর পাশাপাশি এই হাট চালু হওয়ায় গোটা এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন৷ ছোট ছোট কৃষকরা তাঁদের উত্পাদিত ফসলকে সরাসরি বিক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারবেন৷ উপকৃত হবেন দু’পক্ষই৷ তবে সত্যিই বিডিও বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিষয়টি জানতে কি না তার সদুত্তর মেলেনি৷ যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি দু’জনের কারওসঙ্গেই৷

----
--