নয়াদিল্লি: গত বছর ৩০জুন মধ্যরাতে সংসদে বিশেষ অধিবেশন করে চালু হয়েছিল পণ্য পরিষেবা কর৷পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে এক দেশ এক কর ব্যবস্থা চালু করার দাবি নিয়ে এমন সংস্কার আনা হয়েছে ৷ এবার দেখে নেওয়া যাক এই অর্থনৈতিক বিপ্লবের পর একটা বছর কেমন কাটল৷

জিএসটি চালুর পর অনেকেই আশংকা করেছিলেন মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে কিন্তু তেমনটা কিছু হয়নি৷ সম্প্রতি যে মূল্যবৃদ্ধি ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে তা মূলত জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির জন্য এর জন্য জিএসটিকে ঠিক দায়ী করা যায় না৷

Advertisement

জিএসটির জেরে জাতীয় বাজার গড়ে উঠেছে৷ ফলে রাজ্যের সীমানায় থাকা চেক পোস্টে আর তেমন ভাবে ট্রাকের লাইন পড়তে দেখা যায় না৷ এই কর সংস্কারের ফলে গোটা দেশে একটাই করের হার হয়েছে ৷ এরফলে কন্যাকুমারী থেকে জম্মু কাশ্মীরে একই জিনিসের উপর একই করের হার৷

এই কর সংস্কারের ফলে স্বচ্ছ ডিজিটাল প্রসেস এসেছে যাতে ইনপুট ক্রেডিট সহজে মিলবে৷ যারফলে প্রায় ১কোটি করদাতা নিজেদের নথি ভুক্ত করেছে৷ এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন সদস্য এবং আয়কর দাতার সংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে এই কর সংস্কার৷

এই নয়া কর ব্যবস্থা চালুর সঙ্গে ১৭ ধরনের ট্যাক্স ও ২৩ ধরনের সেস-এর অবসান ঘটেছে৷
নয়া ব্যবস্থা চালু হলেও গোটা ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে৷ বিশেষত তারফলে অনেক সময় রিটার্ন ফাইল করতে এবং ইনপুট ক্রেটিড পেতে সমস্যা মুখোমুখি হতে হয়েছে৷ তাছাড়া রফতানিকারকদের রিফান্ড নিয়েও সমস্যা দেখা গিয়েছে৷

তবে রাজ্যগুলির রাজস্ব আদায়ের ৩০ শতাংশ এখন জিএসটি বাইরে রয়েছে ৷ মদ পেট্রোল ডিজেল ইত্যাদি এখনও জিএসটি বাইরে থেকে গিয়েছে৷ এখন আগামী দিনে এগুলি জিএসটির আওতায় আসবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে৷ বিশেষত সম্প্রতি হঠাৎ জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য তখন তেলে জিএসটি চালু করার কথা উঠলেও সরকার সে পথে হাঁটেনি৷ তবে পেট্রোল ডিজেল জিএসটি না বসানোর সুবিধা ভোগ করছে কেন্দ্র- রাজ্য উভয়ই৷

জিএসটি চালু হওয়ার পর জিএসটি পর্ষদ গত এক বছর ধরে পর্যালোচনা করেছে নয়া কর ব্যবস্থা নিয়ে৷ পর্ষদের ইতিমধ্যে বসা ২৭টি বৈঠকে বিভিন্ন সময়ে করের হার নতুন করে কমাতে দেখা গিয়েছে এবং পণ্যের দাম সময়ে সময়ে কমতে দেখা গিয়েছে৷ আগামী দিনে জিএসটি নিয়ে বৈঠকে বসে আদৌ পেট্রোল ডিজেলকে এর আওতায় নিয়ে আসা হবে কি না সেটাই দেখার৷

জিএসটি পর্ষদে কেন্দ্রীয় সরকারের ভোটাধিকার ৩৩ শতাংশ এবং রাজ্যগুলির ৬৬ শতাংশ৷ কোনও বিষয়ে মতবিরোধ হলে তখন কোনও সিদ্ধান্তের জন্য ভোটাভুটির সময় ৭৫ শতাংশ ভোট প্রয়োজন হয়৷ কিন্তু এতদিন পর্ষদে যে সব বৈঠক হয়েছে তাতে ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি৷

নয়া পরোক্ষ কর ব্যবস্থা চালু হলেও পরিকাঠামোগত বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে ৷ তবে প্রাথমিক ত্রুটি কাটিয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়তে দেখা গিয়েছে এবং আদায় বেশ স্থিতিশীল হয়েছিল৷ তবে করফাঁকির ঘটনা এখনও ঘটছে৷ বিশেষত জিএসটি চালু হওয়ার বর্ষপূর্তির কয়েকদিন আগেই দেখা গিয়েছে গত দু’মাসে কর ফাঁকির পরিমাণ ২০০০কোটি টাকা৷

----
--