গুয়াতেমালা সিটি: ২৫ থেকে ৬৯৷ মৃতের তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে৷ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি৷ ছাইয়ে ছাকা ঢাকা রাস্তায় এখন শুধুই স্বজন হারানোর আর্তনাদ৷ আগ্নেয়গিরিটি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে এসকুইনটল শহরে অস্থায়ী একটি মর্গ তৈরি করা হয়েছে৷ যেখানে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে মৃতদের এনে রাখা হচ্ছে৷ তৈরি করা হয়েছে তাদের তালিকা৷ নিজেদের পরিচিতদের সেখানে খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁরা৷

লাভার স্রোতে চাপা পড়া গ্রাম এল রডেওতে এখন শুধুই লাশের সারি৷ ধ্বংস্বস্তুপে পরিণত হয়েছে গোটা গ্রাম৷ কার্যত নিশ্চিহ্ন সব বাড়িঘর৷ একের পর এক দেহ উদ্ধার হয়েছে৷ মঙ্গলবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৯৷ আহত বহু৷ গুয়াতেমালার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা, কনরেড উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে৷ তবে খুব কম সংখ্যক মৃতদেহ সনাক্ত করা গিয়েছে৷

Advertisement

স্প্যানিশে ফুয়েগো অর্থ আগুন, রবিবার অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বাধ্য হয়ে গুয়াতেমালার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। হাজার হাজার একর জমিতে ছড়ানো কফি ক্ষেতগুলো চাপা পড়েছে ছাইয়ে৷ স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের পর দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা।

সোমবার ফের নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত হওয়ায় মৃতদেহ উদ্ধারের কাজে বাধা পড়ে৷ আগ্নেয়গিরি ফুয়েগোর দক্ষিণ ঢালে ভূমিধস হওয়ায় স্থানীয়দের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন৷ পরে বিকেলে আবার ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়৷ কনরেড জানাচ্ছে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়৷

রবিবার ও সোমবারের অগ্ন্যুৎপাতে ছাই ও ধোঁয়া আকাশে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যায়, এতে আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা ছাইয়ে ঢাকা পড়ে। এ পর্যন্ত ওইসব এলাকার তিন হাজার দুশোর বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কনরেড।

আগ্নেয়গিরির ফুয়েগোর আশপাশের ৬,৮৯০ একর এলাকার কফি বাগান ছাই ও বালিতে ছেয়ে গেছে। এতে গুয়াতেমালার কফি উৎপাদন বেশ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে৷

----
--