ইলিশ-পাঁঠায় নেদারল্যান্ডে হাজির যেন আস্ত বাংলা

সুপর্ণা সিনহা রায়, নেদারল্যান্ড: কথায় বলে তিনজন বাঙালি এক জায়গায় হলেই দুর্গা পুজো করে৷ তাহলে প্রবাসে থাকাটা বাধা কেন হবে? এতদিন ধরে পুজো না করার কারণ ফলাফল নিয়ে বহু আলোচনা পর্যালোচনার পর অবশেষে ঠিক হল দুর্গাপুজো করা হোক নেদারল্যান্ডে৷ এরপরই হৈচৈ করে পুজো শুরু হল নেদারল্যান্ডের অ্যামস্টেলভিন৷

বিখ্যাত দার্শনিক ফ্রেডরিক নিৎসে বলেছেন “You must have chaos within you to give birth to a dancing star”৷ বাঙালী যে হইচই-এর মাধ্যমেই আনন্দ খুঁজে পায় সেটা আজ ‘ওপেন সিক্রেট’৷ তখনই সকলে মিলে অ্যাসোসিয়েশনের নাম দেন হইচই৷ শুধু নামেই নয়৷ পুজোর দিন গুলিতে আক্ষরিক অর্থে হইচই করেই পুজো করলেন সকলে৷ কলেজ স্কোয়্যার ত্রিধারা সম্মিলনী, ম্যাডক্সের প্যান্ডেল হপিং এ বেরোনো ছিল না তো কী হয়েছে? নেদারল্যান্ডে বসে কলকাতার নস্টালজিয়ার সঙ্গে মিশে গেল নেদারল্যান্ডের ধুনোর গন্ধ৷

গুনে গুনে পাঁচদিন ধরে কলকাতার পুজোর নির্ঘণ্ট মেনেই পুজো হল৷ মায়ের বোধন কলাবউ স্নান অষ্টমীর পুজো সব৷ খাওয়াদাওয়ার পরে নাচ গান৷ বাংলাদেশ থেকে আনানো ইলিশও ছিল৷ পাঁঠার মাংস তো বাদ যাওয়ার কথাই নয়৷ এছাড়া কলকাতার স্বাদে ভরপুর মিষ্টি৷ শেষ পাতে মিষ্টি পান৷

‘হইচই’ এর পুজোতে পুরোহিত ছিলেন তাঁদেরই এক সদস্য৷ পুজোর ভোগের ক্ষেত্রে বলে দেওয়া হয় যাঁরা ভোগ রান্না করবেন তাঁরাই করতে পারেন৷ সেভাবেই নিজেরাই ঠিক করে নেন পুজোর ভোগ রান্না করবেন কারা৷ নৈবেদ্যর জিনিসপত্র অর্ডার করে দেওয়া হয় ওখানেই বাজারে৷ বেশ কিছু ভারতীয় ও বাংলাদেশি বাজার রয়েছে সেখানেই এখন মেলে অনেক কিছু৷ যেগুলো একেবারেই পাওয়া যায়না সেগুলো আনানো হয় কলকাতা থেকেই৷

মহাপুজো বলে কথা৷ চাড্ডিখানি ব্যাপার তো নয়৷ তাই জোগাড় করাটাও গুরু দায়িত্ব বটে৷ সেটাও সকলে মিলে ভাগ করে নিয়ে সামলান সকলেই৷ সারাদিনের পুজো খাওয়াদাওয়ার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷ ২০০ জন অংশ নিয়েছিলেন এবছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে৷ সবে মিলে পুজো হিট৷

পুজো শুরু হল হৈহৈ করে শেষ হলও হইচই করে৷ মন খারাপ ছিলই কিন্তু আশাও রয়েছে৷ মাত্র বারোটা মাস৷ পার করে দিলেই আবার এই দিনগুলো ফিরবে৷ সে আর কতদিন? এই তো! আসতেই চলল!

---- -----