স্টাফ রিপোর্টার, পুরুলিয়া: সরকারি নয় পুরুলিয়া শিল্পশ্রম ও মানবাজার প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল ৬২তম পুরুলিায়র জন্মদিন। সরকারি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে পুরুলিয়া জেলার জন্ম ও বঙ্গভুক্তির ৬২ তম বর্ষে পদার্পণ করল। দিনটি সরকারিভাবে পালিত না হলেও এই অন্তর্ভুক্তির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা লোকসেবক সংঘ ভাষা সেনানীদের সম্মান জানিয়ে দিনটি উদযাপন করল।

১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন বিহার রাজ্যের মানভূম জেলার ষোলোটি থানা নিয়ে পৃথক পুরুলিয়া জেলা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এদিন সেই ইতিহাসকে মনে রেখে পুরুলিয়া জেলার জন্মদিন পালন করে লোকসেবক সংঘ। পুরুলিয়ার ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎদের প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এছাড়াও লোক সেবক সংঘের তরফ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল আয়োজিত হয়। পরে পোস্ট অফিস মরে একটি সভা আয়োজিত হয়।

পুরুলিয়ার বঙ্গভুক্তির রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। এই অন্তর্ভুক্তির জন্য জেলা বাসীকে দীর্ঘ আন্দোলন করতে হয়। তত্কালীন মানভুম জেলার বিরাট অংশ ছিল বাংলাভাষী। তারাই পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হবার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৪৮ সাল থেকে টানা আট বছর সমানে চলে এই ভাষা আন্দোলন। বঙ্গভুক্তির দাবিতে ১৯৫৬ সালের ২০ এপ্রিল পুরুলিয়ার পাকবিড়রা থেকে কলকাতা পর্যন্ত পদযাত্রা করেন এক হাজারেরও বেশি নারী পুরুষ। একই দাবিতে লোক সেবক সংঘ তৎকালীন ভাষা কমিশনের কাছে পেশ করেছিল ১৪টি ট্রাঙ্ক ভর্তি নথি। যার মধ্যে ছিল বাংলায় লেখা প্রাচীন পুথি পত্র, দলিল এবং বিভিন্ন চিঠি। বিপুল পরিমাণ এই নথিপত্র এবং দস্তাবেজ দেখার পর সারা মানভুম জেলা ঘুরে দেখেন ভাষা কমিশনের সদস্যরা। মানভুমের বড় অংশ বাংলাভাষী অঞ্চল নিশ্চিত হয়ে তারা তৎকালীন মানভুম জেলার মোট ৩১টি থানার মধ্যে ১৯ টিই পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন।

পরে অবশ্য মাত্র ১৪ টি থানাকে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাভাষী এই অঞ্চল ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর পুরুলিয়া জেলা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হবার পর থেকে প্রতি বছর এই দিনে পুরুলিয়া জেলার জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। পুরুলিয়ার ভাষা আন্দোলনের উজ্জ্বল ইতিহাস সারা রাজ্যের নবীন প্রজন্মকে জানানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবী করেন লোকসেবক সংঘের সচিব প্রবীণ সুশীল মাহাতো। তিনি বলেন প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরে এই বিষয়কে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

----
--