এক নীলছবিতেই ফিকে হল হার্দিক

আমেদাবাদ: গুজরাত বিধানসভার প্রচারে মোদী বিরোধী মুখ হয়ে উঠেছিলেন রাহুল গান্ধী৷ মূলত তাঁর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে জোট বেঁধেছিল বিরোধীরা৷ কিন্তু মোদী বিরোধিতার এই লড়াইয়ের সূচনা কিন্তু রাহুল করেননি৷

বরং সেই লড়াই শুরু করেছিলেন হার্দিক প্যাটেল৷ গুজরাতের পতিদার সম্প্রদায়ের এই নেতা সেই ২০১২ সাল থেকে লড়াই করছেন মোদীর বিরুদ্ধে৷ পতিদার সম্প্রদায়কে বিজেপির সরকার বরাবর বঞ্চনা করেছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন৷ প্রথমে তিনি সর্দার প্যাটেল গ্রুপে যোগদান করেন৷ পরে ২০১৫ সালে গঠন করেন পতিদার আনামত আন্দোলন সমিতি৷ এই আন্দোলন করতে গিয়ে তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছে৷

আরও পড়ুন: বিজেপির আবার গুজরাত জয়ের ৭টি কারণ

- Advertisement -

এই আন্দোলনের জেরে গত কয়েক বছর ধরেই চাপে রয়েছে বিজেপি৷ তাই বিজেপিকে হারাতে সেই হার্দিককে সঙ্গে নিয়েছিলেন কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ কিন্তু সোমবার ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল হার্দিক ফ্যাক্টর কাজ করেনি৷ বরং পতিদার সম্প্রদায় অধ্যুষিত আসনগুলিতে বিজেপি বেশ ভাল ফল করেছে৷

ফলে প্রশ্ন উঠছে, কেন এমন হল? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, ভোটের প্রচার চলাকালীন হার্দিক প্যাটেলের একটি এমএমএস ফাঁস হয়ে যায়৷ যা থেকে সামনে চলে আসে তাঁর যৌন-কেচ্ছার কথা৷ যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় গোটা গুজরাতে৷ তা তাঁর সম্প্রদায়ের মানুষই ভালভাবে নেননি৷ ফলে ভোটবাক্সে তার একটা বড় প্রভাব পড়েছে৷ তাঁর কথা শোনেননি ভোটাররা৷ বরং ভোট দিয়েছেন বিজেপিকে৷

আরও পড়ুন: বিধানসভায় জিতে পশ্চিমবঙ্গের বামেদের ধাওয়া করছে গুজরাতের বিজেপি

যদিও হেরেও হার মানতে নারাজ হার্দিক প্যাটেল৷ তিনি বলছেন, গুজরাতের পতিদার সম্প্রদায় এখনও তাঁর পাশেই রয়েছেন৷ তাঁর কথা শুনেই ভোট দিয়েছেন সকলে৷ কিন্তু বিজেপি ভোট-যন্ত্রে গোলমাল করে সেই ভোট নিজেদের দিকে নিয়ে নিয়েছে বিজেপি৷ অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না বলেই তিনি দাবি করেছেন৷ নির্বাচন অবাধ হলে কংগ্রেস একশোর বেশি আসন পেত বলে তিনি দাবি করেছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, ইভিএমের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই জারি থাকবে৷ একই সঙ্গে গুজরাত জুড়ে তিনি প্রচারেও নামতে চান বলে জানিয়েছেন৷ আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সেই অভিযান শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন৷

Advertisement ---
---
-----