পাক সেনাপ্রধানকে আলিঙ্গন করে সিধু কি আইএসএই-কে পালটা কিস্তিমাৎ করলেন?

দেবময় ঘোষ: শনিবার ইসলামাবাদে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শপথে অংশগ্রহণ করার আগেই এক ‘বিতর্কের’ জন্ম দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা নভজোৎ সিং সিধু৷ পাকিস্তানের যে ব্যক্তিকে সব থেকে বেশি সন্দেহের চোখে দেখে ভারতবাসী, পাক সেনাপ্রধান জাভেদ কমর বাজওয়াকে আলিঙ্গন করে ভারতে একগলা বিতর্কে ডুবে সিধু৷ তবে, বিতর্ক ততক্ষণই থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সিধুকে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বিচার করা হবে৷

তবে বিষযটিকে ব্যাখা করতে আমরা অন্য রাস্তাও নিতে পারি৷ ‘আইন-ই-সদর’ বা ইসলামাবাদের রাষ্ট্রপতি ভবনে এক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার প্রতিবেশি দেশের প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানের আগে সে দেশের সেনাপ্রধানকে ‘জাদু কি ঝাপ্পি’ দিয়ে ভালোবাসার বার্তাই দিয়েছেন৷ বিশেষ করে সেই সেনাপ্রধান, যাকে সব থেকে বেশি অপচ্ছন্দের চোখে দেখে ভারতীয়রা৷ এও একপ্রকার কূটনীতি৷

- Advertisement DFP -

ক্রিকেটার নভজোৎকে তার বন্ধু ইমরান আমন্ত্রিত জানিয়েছিলেন৷ প্রধানমন্ত্রী ইমরানের দরবারে বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবেই গিয়েছিলেন সিধু৷ সেখানে অন্যান্য অতিথিদের মতোই তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে পাক সেনাপ্রধানের৷ সিধুর ঠিক আগের আসনেই বসে ছিলেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের বসানো ‘প্রেসিডেন্ট’ মাসুদ খান৷ যিনি কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, কাশ্মীর নাকি ‘বিতর্কিত’ এলাকা৷ রাষ্ট্রসঙ্ঘের তা মেনে নেওয়া উচিত৷ প্রশ্ন উঠতে পারে, মাসুদ খানের বসার ব্যবস্থা সিধু পাশে করা হবে, তা কী পাক-কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল? নাকি যে যাঁর মতো আসন গ্রহণ করেছিলেন ওই অনুষ্ঠানে৷ যদি ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলতে পাক-কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃত ভাবে মাসুদ খানের আসন সিধুর পাশে রেখে থাকে, তবে সেনাপ্রধানকে ‘আলিঙ্গন’ করে পালটা চালেই বাজিমাৎ করে এসেছেন সিধু৷ তিনি যে সেনাপ্রধান জাভেদ কমর বাজওয়াকে আলিঙ্গন করবেন, তা পাক-কর্তৃপক্ষ এবং পাক-মিডিয়ার কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল৷ ‘মাসুদ খানের পাশেই ভারতের মন্ত্রী’ এই সস্তা ‘নিউজ অ্যাঙ্গেল’ খুঁজতে ব্যস্ত ছিলেন তাঁরা৷ কিন্তু বাজওয়াকে আলিঙ্গন করে বন্ধুত্বের ‘পাঠ পড়িয়ে’ কিস্তি-মাৎ করেছেন সিধু৷ মাসুদ খানের সঙ্গেও তাঁকে কথা বলতে দেখা গিয়েছো৷

১৯৮৭ সালে জয়পুর টেস্ট ম্যাচে কপিল দেবের সঙ্গে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ জিয়াউল হকের মোলাকাৎ এবং ২০০৪ সালে পাকিস্তান সফর চলাকালীন ক্যাপ্টেন সৌরভ গাঙ্গুলীকে ভোরবেলায় রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফের ফোন কিংবা ম্যাচে শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ধোনীর ‘হেয়ার-স্টাইলের’ প্রশংসায় মুশারফ, এই সব টুকরো-টুকরো ঘটনা নিয়ে যতটা জল্পনা ছড়িয়েছিল, সেই সব কিছুকে অতিক্রম করতে পারে পাক সেনাপ্রধানকে নভজোৎ সিং সিধুর আলিঙ্গনের ঘটনা৷ সময় যত এগোবে জল্পনা ঘনীভূত হবে৷

কপিল, সৌরভ বা ধোনীর বার্তালাপ হয়েছিল সেনাপ্রধান থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউল হক এবং মুশারফের সঙ্গে৷ কিন্তু বর্তমান ‘সার্ভিস চিফে’র সঙ্গে হাত মোলানো এবং আলিঙ্গন করা ক্রিকেটার হিসেবে এই প্রথম একজন উদহরণ হয়ে থাকলেন সিধু৷ হ্যা, কপিল, সৌরভ বা ধোনী খেলতে খেলতেই পাক-প্রধানদের সঙ্গে বার্তালাপ করেছিলেন৷

এক্ষেত্রে সিধু খেলা ছেড়েছেন একযুগ আগে৷ ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকারও নন৷ এখন উনি পুরদস্তুর এক রাজনৈতিক কর্মী৷ পঞ্জাবের মন্ত্রী৷ প্রশ্নটা সেই ঘুরে ফিরে আসে, সমালোচনাকারীরা সিধুকে কোন ভূমিকায় দেখতে চান? ক্রিকেটার নাকি নেতা৷

পাকিস্তানের ভবিষ্যত সবসময়ই অনিশ্চিত৷ ইমরান নিজেও জানেন না, তার ভবিষ্যত কী৷ জাভেদ কমর বাজওয়াও জানেন না, সেনাপ্রধান হিসেবেই তিনি কর্মজীবন শেষ করবেন, নাকি, সেনাশাসক বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভবিষ্যতের জন্য একটি ইনিংস গচ্ছিত রাখবেন৷

অন্যদিকে পঞ্জাবে নভজোৎ সিং সিধুর ছবিতে জুতো পড়তে শুরু করেছে৷ বিজেপিও কংগ্রেসকে ‘পাকিস্তানের বন্ধু’ হিসেবে দেখিয়ে নতুনভাবে প্রচার শুরু করেছে৷ কিন্তু উপর থেকে যা বোঝা যাচ্ছে না, ভিতরে কী তাই ঘটে গিয়েছে? পাক সেনাপ্রধান জাভেদ কমর বাজওয়াকে আলিঙ্গন করে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসএই-কে পালটা অস্বস্তিতে ফেললেন না তো ভারতের প্রাক্তন এই ওপেনিং ব্যাটসম্যান?

Advertisement
----
-----