প্রসেনজিৎ চৌধুরী: তিনি ঢাকার বহু বিখ্যাত মরণচাঁদের মিষ্টি খেয়েছেন৷ নাটোরের কাঁচাগোল্লার স্বাদ জানেন৷ কিন্তু মিহিদানা-সীতাভোগ কি খেয়েছেন ? উত্তর অজানা৷ বঙ্গবন্ধু কন্যাকে স্বাগত জানাতে বর্ধমানের গর্ব দুই বিশেষ মিষ্টি উপহার সাজাতে চলেছেন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মহিলা রাষ্ট্রনেত্রীকে সাম্মানিক ডি.লিট প্রদান করবে নবগঠিত পশ্চিম বর্ধমান জেলার এই বিশ্ববিদ্যালয়৷ বাঙালি প্রধানমন্ত্রীকে কাছে থেকে দেখতে চান জেলাবাসী৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সীতাভোগ-মিহিদানা বর্ধমানের গৌরব৷ বাংলার গরিমা৷ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাঙালি প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে আমরা প্রস্তুত হচ্ছি৷ অভ্যর্থনা কমিটির সঙ্গে আরও কয়েকটি ব্যাপারে আলোচনা চলছে৷

বাংলাদেশের যেমন পোড়াবাড়ির চমচম, কুমিল্লার রসমালাই বিখ্যাত৷ তেমনই পশ্চিমবঙ্গের নজরকাড়া মিষ্টান্ন হল সীতাভোগ-মিহিদানা৷ সম্প্রতি প্রশাসনিক কারণে বর্ধমানে জেলা ভাগ হয়েছে৷ কিন্তু মিষ্টি সৌরভের ভাগ হয়নি৷ তাই পশ্চিম বর্ধমানবাসীর কাছেও বিশেষ প্রিয় এই মিষ্টান্ন৷

আগামী ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে আসছেন৷ এই দিনই তিনি শান্তিনিকেতনে গিয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করবেন । কবিগুরুর শান্তিনিকেতনে এই ভবন নির্মাণ করেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সরকার। জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকবেন৷

২৬ মে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান৷ এই দিন পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে যাবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ সেখানেই তাঁকে ডি.লিট প্রদান করা হবে৷

আরও পড়ুন: নীরব বুলবুলির মতো ডাক ইতিহাসে ভাস্বর কবি নজরুল

আসানসোলের কাছেই চুরুলিয়াতে কবি নজরুলের জন্ম৷ পাকিস্তান থেকে ছিন্ন হয়ে ১৯৭১ সালে তীব্র রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের পর গঠিত হয় বাংলাদেশ৷ স্বাধীনতালাভের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুরোধে নজরুল ও তাঁর আত্মীয়রা চলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে৷ তাঁকে সেদেশের সরকার জাতীয় কবির সম্মান দিয়েছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে কবির সমাধি৷ চুরুলিয়াতে কবির সমাধি সৌধ তৈরি করা হয়েছে৷ সফরে এসে নজরুলের জন্ম ভিটে দেখতে যাবেন শেখ হাসিনা৷

----
--