প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলা; রাজ্যকে জরিমানা আদালতের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন করা হয়েছিল৷ সেই অভিযোগে রাজ্যকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করল কলকাতা হাইকোর্ট৷ ২০১২ সালে সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন করা হয় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে৷

এই মামলায় শুক্রবার জরিমানা করা হয় রাজ্যকে৷ পাশাপাশি, যাতে ভবিষ্যতে ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয় সে বিষয়েও এদিন রাজ্যকে সতর্ক করল বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

মামলার বয়ান অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০১২ সালে ৩৪ হাজার শূন্যপদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে৷ ৩১শে মার্চ ২০১৩ সালে সারা রাজ্যের প্রায় ৩৪ লক্ষ পরীক্ষার্থী ওই পরীক্ষায় বসেন৷ তার পরেই হাইকোর্টে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে মামলা দায়ের করেন বাপি কান্দার সহ ২০ জন মামলাকারী। তাঁদের পক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানিয়ে ছিলেন ন্যাশনাল স্কুল ফর টিচার এডুকেশন বা এনসিটিই-র গাইডলাইন মানা হয়নি ওই পরীক্ষায়৷

- Advertisement -

সেখানে সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্নপত্র করা হয়েছিল৷ তাই পরীক্ষা বাতিল করা হোক এবং গ্রেস নম্বর দেওয়া হোক। বিচারপতি দেবাংশু বসাক মামলাকারীদের আবেদন খারিজ করে দেন। সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ২০১৫ সালে মামলা দায়ের করেন মামলাকারীরা।

বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চ এনসিটিই-র রিপোর্ট তলব করে৷ ন্যাশনাল স্কুল ফর টিচার এডুকেশনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিয়ে জানানো হয়, ২০১২ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নপত্র সিলেবাস বহির্ভূত হয়েছিল৷ বিচারপতি সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেন নিয়োগ প্রক্রিয়া চলবে তবে যাদের নিয়োগ করা হবে তাঁদের নিয়োগপত্রে লিখে দিতে হবে মামলার ভবিষ্যতের ওপর তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

অবশেষে মামলাটি শুনানী হয় বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে৷ শুক্রবার মামলার নিষ্পত্তি করে ডিভিশন বেঞ্চ৷ রায় দিতে গিয়ে রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত সতর্ক করে বলেন ভবিষ্যতে ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে৷ পাশাপাশি, বেঞ্চ আরও জানায়, ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই আদালত পরীক্ষা বাতিল করছে না৷

এর প্রেক্ষিতে আদালতের যুক্তি যারা পরীক্ষায় ফেল করেছেন তারাও আদালতের দ্বারস্থ হবেন তাতে আর সমস্যা বাড়বে। রাজ্য সরকার আগেই মামলার শুনানি চলাকালীন তাঁদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন তাই বেঞ্চ বলেন যে কুড়ি জন মামলা করেছেন তাঁরা ভবিষ্যতে টেট পরীক্ষায় বসলে তাঁদের কোন খরচ যেমন দিতে হবে না৷ পাশাপাশি তাঁদের বয়সের ওপরও ছাড় দেবে সরকার। এবং রাজ্য সরকারকে যে একলক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে সেটা এক মাসের মধ্যেই মামলাকারী ২০ জন কে দিতে হবে৷

Advertisement
---