প্রসেনজিৎ চৌধুরী: জাতীয় সড়ক ধরে গলসি, পানাগড় পর্যন্ত চাপা উত্তেজনার পরিবেশ৷ থমথমে অবস্থা৷ পূর্ব বর্ধমান ছাড়িয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলার খনি-শিল্পাঞ্চলের শুকনো গরম ধীরে ধীরে জানান দিচ্ছে৷ তার সঙ্গেই জুটছে গোষ্ঠী সংঘর্ষ পরবর্তী চাপা আতঙ্ক।

রামনবমীকে ঘিরে উন্মত্ত তাণ্ডবের কী কোনও প্রয়োজন ছিল? পানাগড়ের দার্জিলিং মোড় এলাকার ব্যবসায়ীর উত্তেজিত প্রশ্ন৷ তিনি আরও জানালেন, পুলিশ কি দাঁড়িয়েই দেখবে সব? নাকি অবস্থা সামাল দেবে৷

পুলিশ তো গিয়েছিল৷ দেখেননি রক্তাক্ত অফিসারের সেই ছবি ?

‘উনি বীর, ওনাকে সম্মান করছি’, কিন্তু পুলিশ কি জানত না কেমন ‘টেনশন’ তৈরি হয়েছে? বলুন তো কোথায় ঘাটতি ছিল ? পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন ব্যবসায়ী৷

রানিগঞ্জে গোষ্ঠী সংঘর্ষের দিনে বোমার আঘাতে আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের ডিসি অরিন্দম দত্ত চৌধুরী জখম হন। ভয়ঙ্কর সেই ছবি দেখে শিউরে যায় গোটা দেশ৷ তাঁর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল৷ হাতে হবে জটিল অপারেশন৷ সেই কারণে তাঁকে দুর্গাপুর থেকে কোয়েম্বাটোরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ এই কথা শুনলেন ওই ব্যবসায়ী৷ অজান্তেই তিনি হাতটা কপালের কাছে নিয়ে গেলেন৷ প্রণাম করলেন কী? না স্যালুট করলেন? বুঝতে পারলাম না !

জাতীয় সড়কের ধারে পানাগড়ের জমজমাট মোড়৷ এখান থেকেই বীরভূম ঢুকে যাচ্ছে একটি সড়ক৷ আর সোজা কালো পিচের চলে যাচ্ছে দুর্গাপুর হয়ে শিল্পাঞ্চলে৷ আর দুর্গাপুর-ওয়ারিয়া পার করতেই ছবিটা বদলে যাচ্ছে৷ থমথমে পরিস্থিতি যেন কাটছেই না৷ একটার পর একটা রাত পার হচ্ছে, আর পরবর্তী ভয় মেশানো রাতের অপেক্ষায় দিন পার করছেন আসানসোল-রানিগঞ্জবাসী৷ ধর্মীয় শোভাযাত্রা ঘিরে যে গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল তারই রেশ চলছে৷ পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন স্থানে।

নিরাপত্তা কড়া৷ তবুও মনে শান্তি নেই৷ এরই মাঝে চলছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা৷ খবর আসছে, প্রশাসনের তরফে বৃহস্পতিবার পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে৷ তবে রাতভর অশান্তির চিন্তা-আতঙ্ক আর সকাল হলেই পরীক্ষার জন্য শেষ প্রস্তুতি৷ এমন অবস্থা কী পরীক্ষা হয়? কেমন আছি বুঝতে পারছেন তো! স্পষ্টই জানিয়ে দিলেন প্রিয়াঙ্কা (পদবী উহ্য রাখা হল)৷ প্রিয়াঙ্কা ফোনে যা জানালেন তার সারমর্ম হল স্বাভাবিক নয় তার এলাকা৷ দমবন্ধকর অবস্থার মধ্যেই রাত জেগে পরীক্ষার পড়া করেছেন৷

রানিগঞ্জ, আসানসোলে রামের নামে উন্মত্ত তাণ্ডবের অবস্থা দেখছে দেশ, সেই খবর ছড়িয়েছে বিশ্বচজুড়ে৷

----
--