সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : ক্রান্তীয় ঝড় পাবুক শক্তিক্ষয় হলেও বৃষ্টিতে ভাসছে আন্দামান এবং নিকবোর দ্বীপপুঞ্জ। এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় পোর্টব্লেয়ার থেকে শুরু করে মায়াবন্দর কিংবা নানকৌরি প্রত্যেক অঞ্চলেই ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ঘণ্টাতেও থাকছে বৃষ্টির সম্ভাবনা।

পোর্টব্লেয়ারকে উড়িয়ে আগেই নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঝড়। শক্তি ক্ষয় হয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় হাওয়া অফিস। কিন্তু বৃষ্টি পিছু ছাড়েনি ভারতের জলসীমার শেষ প্রান্তের দুই দ্বীপ রাজ্যকে। চিন সাগরের ঝড় ইন্দোনেশিয়া থেকে শক্তি বাড়িয়ে ক্রমে এগিয়ে এসেছিল আন্দামানের দিকে। সোমবার আন্দামান দ্বীপের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার পরেই এর শক্তিক্ষয় হয়েছে। এগিয়ে এগিয়ে গিয়েছে মায়ানমার উপকূলের দিকে।

কিন্তু বৃষ্টির জেরে কার্যত ভাসছে আন্দামান এবং নিকোবর। এদিন সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত লং আইল্যান্ডে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, মায়া বন্দরে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, নানকৌরিতে বৃষ্টি হয়েছে ১০.২ মিলিমিটার, কর নিকোবরে বৃষ্টির পরিমাণ ১ মিলিমিটার। হাট বে তে ৭ জানুয়ারি ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও আট জানুয়ারি সকালে আর বৃষ্টি হয়নি।

কেন্দ্রীয় হাওয়া অফিস জানিয়েছিল, শনিবার বিকেল এবং সন্ধ্যার মাঝামাঝি সময়ে আন্দামান সাগরে প্রবেশ করে ঝড়। টানা দুই ঘন্টা ধরে পোর্টব্লেয়ার তাণ্ডব চালায় পাবুক। এরপর ৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় গতিতে সেটি এগিয়ে গিয়েছিল আরও উত্তর পশ্চিম দিকে। ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আন্দামান দ্বীপের উপর তাণ্ডব চালায় ঝড়।

তবে সাত জানুয়ারি বিকেল থেকে ঝড় শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হলেও আন্দামানের উপকূলীয় অঞ্চলে এখনও বইছে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার বেগে হওয়া। আন্দামান সাগরেও ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় হাওয়া অফিস। মধ্য – পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যথাক্রমে ভারী এবং মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। তাই উপকূলীয় অঞ্চলে এখনও জারি রয়েছে সতর্কতা। পর্যটক এবং মাঝিদের জন্য এখনও জারি রয়েছে বিশেষ সতর্কতা। আগামী ২৪ ঘণ্টার আগে সমুদ্র শান্ত হচ্ছে না তা স্পষ্ট।

মঙ্গলবারও সারাদিনই আন্দামানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নিকোবরেও বৃষ্টি হতে পারে। কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাত থেকেই বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার শক্তি হারানো ক্রান্তিয় ঝড় এগিয়ে যাবে মায়ানমারের দিকে।

--
----
--