ভারী বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত কেরল, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

ফাইল ছবি

তিরুঅনন্তপুরম: দ্বিতায় দফায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে কেরলে৷ বেশির ভাগ এলাকা জলমগ্ন৷ সোমবার থেকে নতুন করে ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ৷ বন্ধ স্কুল কলেজ৷

জাতীয় সড়ক থেকে শুরু করে বেশিরভাগ রাস্তাই জলের তলায়৷ দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টি শুরু হয়েছে৷ আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন বৃষ্টি আপাতত চলছে৷ প্রভাব পড়েছে ট্রাফিকে৷ যান চলাচল রীতিমতো সমস্যায়৷ শ্লথ গতিতে চলছে যান বাহন৷

গত ৯ই জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিতে ১১জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কন্ট্রোল রুম৷ বেশিরভাগ নীচু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে৷ রেল লাইন ডুবে গিয়ে ট্রেন পরিষেবাও বিঘ্নিত৷ সমস্যা দেখা দিয়েছে সিগনালিং সিস্টেমে৷

- Advertisement -

এরনাকুলাম-তিরুঅনন্তপুরম রুটের সব ট্রেনই দেরিতে চলছে৷ সোমবার প্রায় ৮টি ট্রেন বাতিল ঘোষণা করা হয়৷ কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের আওতাভুক্ত বাস বাতিল করা হয়েছে৷ বাসস্ট্যান্ডগুলি জলের তলায় চলে যাওয়ায় রাজ্য জুড়ে বাস পরিষেবাও ব্যহত৷

তিরুঅনন্তপুরম, আলাপ্পুঝা, কোট্টায়াম, এরনাকুলাম, থ্রিসুর ও পাঠানমিট্টা এলাকার সব স্কুল কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে৷ জেলাশাসকের পক্ষ থেকে ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়৷ কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে৷ বলা হয়েছে পরীক্ষা শুরু হবে পরের মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই৷

উপকূলীয় এলাকায় ৬১৪ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, ২০টি বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে৷ বিভিন্ন এলাকায় ধস নামছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে নদী। বর্ষা শুরুর পর থেকে মাত্র ২ সপ্তাহে কেরালায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই ঘটেছে ধসে চাপা পড়ে।

কেরলের আলাপ্পুজা ও কোঝিকোড় জলের তলায় চলে গেছে। পাহাড়ি এলাকা মালাপ্পুরম, ওয়ানাদে বার বার ধস নামছে। যার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন। ভারথাপুঝা, সিরুভানি ও ভবানী, এই ৩ নদী ভয়ংকর চেহারা নিয়ে বয়ে চলেছে। নদীর জলের প্রবল তোড়ে ভেসে গেছে বহু এলাকা। ভেঙে পড়েছে ব্রিজ। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ২৫টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। বহু মানুষ বিভিন্ন প্রান্তে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে যা পরিস্থিতি তাতে এখনও আগামী ৫ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে।

Advertisement ---
---
-----