বাসুদেব ঘোষ, তারাপীঠ: সারা বছরই হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় তারাপীঠে৷ অমাবস্যা কিংবা বিশেষ কোনও তিথি থাকলে তো কথাই নেই৷ জনজোয়ার চলে রীতিমত৷ ভিড় সামলাতে হিমশিম খায় জেলা পুলিশও৷ ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই তারাপীঠ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য৷ দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এবার থাকছে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা৷ বৃহস্পতিবার তারই মহড়া হয়ে গেল বীরভূমে৷

তারাপীঠ নিয়ে এবার নতুন পরিকল্পনা রাজ্যের৷ দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে থাকবে হেলিকপ্টারে ব্যবস্থা৷ তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের জন্য সস্তায় কলকাতা-রামপুরহাট হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করছে রাজ্য৷ খুব তাড়াতাড়িই কলকাতা-রামপুরহাট উড়ান চালু হবে৷

আরও পড়ুন: প্রেমিকার পরিবারের হাতে হেনস্তার শিকার যুবক

তার আগে বৃহস্পতিবার সেই উড়ান মহড়া হয়ে গেল রামপুরহাটে৷ বীরভূমের রামপুরহাট কৃ্ষি দফতরের পাশের মাঠে এই মহড়া হয়৷ মহড়া দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন এলাকার মানুষজন৷ বৃহস্পতিবার জেলার রামপুরহাট কৃষি দফতরের পাশের মাঠে বেসরকারি সংস্থার একটি হেলিকপ্টার অবতরণ করে৷

সূত্রের খবর, সপ্তাহের প্রতিদিনই যাত্রী নিয়ে কলকাতা থেকে রামপুরহাটের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে এই হেলিকপ্টারটি৷ বিকেলে যাত্রী নিয়ে আবার কলকাতার উদ্দেশ্যে উড়ে যাবে৷ রাজ্যে কোনও ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে হেলিকপ্টার পরিষেবা এই প্রথম৷ পরিষেবাটি চালু হলে পর্যটকদেরও তারাপীঠে আসতে সুবিধা হবে৷ হাতে সময় কম থাকলে মাকে পুজো দেওয়ার সাধ মিটবে সহজেই৷

পরিষেবা বাড়ছে৷ ঢেলে সাজছে মা তারার পীঠস্থান তারাপীঠ৷ উড়ান পরিষেবা চালু হলে ভক্তরা খুব সহজেই কলকাতা থেকে তারাপীঠ আসতে পারবেন পুজো দিতে৷ যারা পুজো দিয়ে থাকতে চান তাদের ব্যবস্থাও থাকছে৷ হেলিপ্যাডের সামনেই গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল আকারের সার্কিট হাউস৷ আর সেখানেই ভক্তদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে আলাদা একটি সড়কপথের কথাও ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর৷

আরও পড়ুন: ‘কিষেণজিই ছিল মমতার সবচেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ’

শুধু রাজ্য থেকেই নয় তারাপীঠে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকী বিদেশ থেকেও প্রচুর দর্শনার্থী আসেন৷ এবং এই ভক্ত সমাগম কিন্তু সারা বছরই৷ শনি, মঙ্গলবার মানুষের ঢল নামে তারাপীঠের মন্দিরে৷ বাকি দিনগুলোও মন্দিরে ভিড় জমান ভক্তরা৷

আর সেই কারণেই তারাপীঠে ভক্তদের যাতায়াতের সুবিধার দিকটি বিশেষ করে নজর দিতে চায় রাজ্য৷ গেটা বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব নিয়েছে পূর্তদফতর৷ পরে অবশ্য পরিবহণ দফতরকেই তা হস্তান্তর করা হবে৷ যদিও কবে থেকে এই পরিষেবা চালু হবে তা এখনও জানা যায়নি৷ তবে খুব তাড়াতাড়িই এই পরিষেবা চালু করতে চাইছে রাজ্য৷

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের দূর্ভোগের কথা রেলমন্ত্রীকে জানালেন সেলিম

অন্যদিকে ভাড়ার দিকটিও এখনও চূড়ান্ত হয়নি৷ তবে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই এই ভাড়া ঠিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ পিডব্লুডির এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রদীপ পাল বলেন, ‘‘আমাদের কাজ হল হেলিপ্যাড তেরি করা৷ সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে৷ খুব তাড়াতাড়ি সেগুলি শেষ করা হবে৷’’

----
--