ডেঙ্গু মৃত্যুতে ২ লাখ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাইকোর্টের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডেঙ্গু ইস্যুতে ফের আদালতে মুখ পুড়ল রাজ্যের৷ ‘বিষমদে মৃতদের ২ লাখ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে ডেঙ্গুতে নয় কেন?’ ডেঙ্গু প্রসঙ্গে জনস্বার্থ মামলার রায় দিতে গিয়ে এমনই প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ৷ এরপরই রাজ্যেকে তীব্র ভৎসর্ণা করে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেন, ডেঙ্গুতে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, যাদের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ডেঙ্গু’ লেখা থাকবে শুধু মাত্র তাঁদের পরিবারই ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ লক্ষ টাকা করে পাবেন৷ আদালতের তরফে রাজ্যের আইনজীবীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবিষয়ে রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিটাকে গেজেট নোটিফিকেশন করতে হবে এবং সরকারি ওয়েব সাইটে প্রকাশ করতে হবে৷

প্রসঙ্গত, ডেঙ্গু ইস্যুতে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি অরুণ মিশ্র একটি নির্দেশ জারি করেছিলেন৷ ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, ডেঙ্গু শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষার ‘কীট’ সবসময় মজুত রাখতে হবে রাজ্যে৷ সেই নির্দেশ আদৌ কার্যকরী হয়েছে কি না, তাও এদিন খতিয়ে দেখে ডিভিশন বেঞ্চ৷

- Advertisement -

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়৷ প্রথমে দমদম সহ নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিলেও গত এক মাসে এর প্রকোপ তিলোত্তমার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে৷ রাজ্যের জেলায় জেলায়ও ডেঙ্গু কার্যত মহামারির আকার নেয়৷ বেসরকারি মতে, রাজ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতর সংখ্যা শতাধিক৷ আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার৷ যদিও সরকারিভাবে ওই তথ্যকে মান্যতা দেওয়া হয়নি৷

ডেঙ্গু বিতর্কে বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য দশাকে আড়াল করতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলেও রাজ্য সরকারের ‘চাপে’ চিকিৎসকরা মৃত্যুর কারণ হিসেবে-ডেঙ্গুর পরিবর্তে অজানা জ্বরের কথা উল্লেখ করছেন৷ একই সঙ্গে সাফায় অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা৷ যদিও প্রথম থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে রাজ্য সরকার ও শাসকদল৷ এরপরই এবিষয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়৷ সেই মামলার রায় দিতে গিয়ে বছর কয়েক আগে রাজ্যে চোলাই খেয়ে মৃত্যু মিছিলের প্রসঙ্গ টেনে ডিভিশন বেঞ্জ এদিন রাজ্যের কাছে জানতে চাই- চোলাইয়ে মৃতদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে, ডেঙ্গুতে নয় কেন?

রাজ্যে আদালতের নির্দেশ কার্যকরী করবে নাকি রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়৷ একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় কি রাজ্যে আদৌ ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হবে৷ কারণ, বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাজ্যের তরফে তা মানা হয়নি৷