স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আসানসোল পুরসভার মেয়র তথা বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর রুজু করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনার সূত্রপাত পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়া ঘিরে হিংসাকে কেন্দ্র করে। মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তিনি বিরোধী মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়া বিজেপি প্রতিনিধিদের উপরে ধারাল অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেন। মেয়রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এফআইআর হিসেবে নেয়নি দুর্গাপুর থানা। পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিজেপি সভাপতি লক্ষণ ঘোড়ুই।

- Advertisement -

বুধবার সেই মামলার শুনানি চলাকালীন লক্ষণ ঘোড়ুইয়ের পক্ষের আইনজীবী পার্থ ঘোষ এবং আইনজীবী শুভজিৎ শীল আদালতে জানান যে গত ৭ ই এপ্রিল ২০১৮ সালের রাজ্যের নবম ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন লক্ষণ বাবু। সেই সময় এসডিপিও অফিসের সামনে ১২ থেকে ১৫ জনের মতো তৃণমূল দুস্কৃতি দল তাঁদের উপরে হামলা চালায়। ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন আসানসোল পুরসভার মেয়র তথা বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। অভিযোগ, মেয়র নিজেই বিজেপি জেলা সভাপতির পেটে ভোজালি ঢুকিয়ে দেন।

লক্ষণ ঘোড়ুইয়ের শরীরে ১৮ টি সেলাই হয়। পরের দিন অর্থাৎ ৮ ই এপ্রিল মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবং সেদিন উপস্থিত অন্য সকল তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ জানাতে যান লক্ষণ বাবু। কিন্তু মেয়রের বিরুদ্ধে এফআইআর নিতে অস্বীকার করে দুর্গাপুর থানা। পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ৩০ শে এপ্রিল হাইকোর্টে পুলিশি নিষ্কৃয়তার মামলা করেন। যদিও সরকারি আইনজীবী অমিতেষ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আদালতে দাবি করেন যে দুর্গাপুর থানায় লক্ষণ বাবু বা বিজেপি-র কোনও প্রতিনিধি অভিযোগ দায়ের করতেই যাননি।

সরকারি আইনজীবীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাকারীর আইনজীবী পার্থ ঘোষ আদালতে উপযুক্ত প্রমাণ তুলে ধরেন। লিখিত অভিযোগপত্রের উপরে উপর দুর্গাপুর থানার সিল এবং অফিসার ইন চার্জের স্বাক্ষর সম্বলিত নথি বিচারপতির নজরে আনেন পার্থ বাবু।

সমগ্র ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, “অভিযোগকারীর অভিযোগ কেন এফআইআর হিসেবে পুলিশ গ্রহণ করল না।” আগামী মঙ্গলবার মেয়রের বিরুদ্ধে এফআইআর করে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়।

----