স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সরাসরি অনুমতি নয়, তবে বিজেপির রথযাত্রা মামলায় হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় সংশোধন করল ডিভিশন বেঞ্চ৷ স্বরাষ্ট সচিব, মুখ্য সচিবকে বিজেপির শীর্ষ তিন নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চ৷ ১২ই ডিসেম্বরের ওই বৈঠকেই স্থির হবে বিজেপির রথযাত্রার রূপরেখা৷ বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্ব তথা আদালতকে জানাবে নবান্ন৷ অর্থাৎ রথযাত্রার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বভার রাজ্যের কোর্টেই ঠেলে দিল আদালত৷

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি মুসলিমদের বিতাড়ন, হিন্দু শরনার্থীদের আশ্রয়ের আশ্বাস দিলীপের

আগামী সপ্তাহে বুধবার পর্যন্ত কোনও সভা হবে না বলেও এদিন জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জয়’ বলে উল্লেখ করলেন বিজেপির আইনজীবী। ২৯ অক্টোবর থেকে বারবার বিজেপির তরফে চিঠি দেওয়া সত্বেও প্রশাসনের তরফে কেন উত্তর আসেনি? সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। যাত্রা কর্মসূচি এদিনই অনুমোদন না পেলেও, হাইকোর্টের রায়ে এদিন বিজেপির দাবির একটা দিক মান্যতা পেল বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির৷

শুনানিতে এদিন পরতে পরতে ছিল নাটক৷ শুনানির প্রথম পর্বে বিজেপির আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র আদালতে বলেন, “সভা করার জন্য রাজ্যকে চার বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ২৯ অক্টোবর প্রশাসনকে প্রথম চিঠি দেওয়া হয়। ৫ নভেম্বরও প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়। সরকার একবার জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনি।”

আরও পড়ুন: বাংলায় ২৩ টি জনসভা করেছি, কোথায় দাঙ্গা হয়েছে দেখান মমতা: অমিত শাহ

এই সময়ই বিজেপির আইনজীবীকে বিচারপতি সম্মাদ্দারের প্রশ্ন ছিল. “কর্মসূচির জন্য অনুমতি না সহযোগিতা, কোনটা চাওয়া হয়েছিল?” উত্তরে বিজেপির আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র বলেন, “মিটিং-মিছিল করা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা তাই প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছিলাম মাত্র।” পালটা বিচারপতি বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টি খুবই অস্পষ্ট৷’’

আরও পড়ুন: শনিবার কলকাতায় আসছেন অমিত শাহ

এরপর শুনানির দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সম্মাদার৷ চড়া সুরে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি তো অনেক আগেই চিঠি দিয়েছিল। একমাস সময় পেয়েও কেন কিছু করেননি? রাজ্যের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।’’ বিজেপির মিছিলে গণ্ডগোলের কথা এজি আদালতে তুলে ধরলে তাঁকে বিচারপতি বলেন, ‘‘পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নিন, রঙ দেখে বিচার করবেন না। আপনারা অনুমতির ক্ষেত্রে খেলোয়াড় কে তা দেখেননি, উলটে দেখেছেন খেলোয়াড়ের জার্সির রং৷ ব্যক্তি মানুষের অধিকারের উপর ইনজংশন জারির চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার৷ যা কাম্য নয়৷’’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানো যেত বলে এজিকে জানান বিচারপতি৷

শুনানি শেষে সিঙ্গল বেঞ্চের রায় সংসোধন করে ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ও মুখ্যসচিবকে আদালতের নির্দেশ, রথযাত্রা নিয়ে বিজেপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সিঙ্গল বেঞ্চ সবদিকটা বিচার না করেই রায় দিয়েছিল। কর্মসীচি কথনোই ৯ তারিখ পর্যন্ত ফেলে রাখা যাবে না৷

আরও পড়ুন: ইডির তলবে সিজিও কমপ্লেক্সে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গে বন্ধু শোভন

আইন শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার বিজেপির রথযাত্রা কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি সিঙ্গল বেঞ্চ। রায়ে বলা হয় আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের কোথাও রথযাত্রা বার করা যাবে না। এবিষয়ে রাজ্যেকে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রথযাত্রার অনুমতি চেয়ে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে বিজেপি।

--
----
--