মমতার ট্রাক, মোদীর পেট্রোল, জোড়া জাঁতাকলে হেঁশেলে টান

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: মোদী মমতায় জেরবার হতে পারে রাজ্যের চাল, ডাল, সবজি থেকে মাছ, ডিমের বাজার। এমনটাই জানা যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের সূত্রে। একদিকে ২০ চাকার ট্রাক নিষিদ্ধ এবং অন্যদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা পেট্রোল ডিজেলের দাম। জোড়া ফলায় বিদ্ধ হতে পারে রোজকার খাদ্যের সবকিছুই।

রবিবার আরও একবার মাথায় হাত পড়েছে ট্রাক চালকদের। আবারও বেড়ে গিয়েছে পেট্রোল ডিজেলের দাম। রবিবার দিল্লিতে পেট্রোলের দাম হল লিটারপিছু ৮০.৫০ টাকা, কলকাতায় ৮৩.৩৯ টাকা, মুম্বইয়ে ৮৭.৮৯ টাকা ও চেন্নাইয়ে ৮৩.৬৬ টাকা। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম লিটারপিছু দিল্লিতে হল ৭২.৬১ টাকা, কলকাতায় ৭৫.৪৬ টাকা, মুম্বইয়ে ৭৭.০৯ টাকা ও চেন্নাইয়ে ৭৬.৭৫ টাকা প্রতি লিটার। এবছরের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত পেট্রোলের দাম ১০.৪১ টাকা বেড়েছে।

অন্যদিকে ডিজেলের দাম বেড়েছে ১২.৮১ টাকা। এর জের আগে থেকেই পড়েছে সবজি বাজারের উপর। মাছ আসে অন্ধ্রের থেকে, পাশাপাশি টমেটো, আদা, পিঁয়াজ এই সময় সবই আসে বাইরে থেকে। পাশাপাশি ডাল, পোস্ত সবই আসে বাইরের রাজ্য থেকে। মশলাগুলিও সব আসে ভিন রাজ্য থেকে। জ্বালানির দাম এই হারে দাম বৃদ্ধি হলে বাজারে সব জিনিষের দাম বৃদ্ধি হবেই। কারন অন্য রাজ্য থেকে ট্রাক চালকরা এখানে আসতে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছেন। পাইকারি ক্রেতাদের বেশি গ্যাঁট গচ্ছা যাওয়ায় খুচরো বাজারেও এর প্রভাব পড়বেই বলে মনে করছে ওয়াকিবহলমহল।

- Advertisement -

জ্বালানির দর বৃদ্ধির সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ২০ চাকার ট্রাকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি। কিছুদিন বাদে এর প্রভাব পড়তে পারে পিঁয়াজ এবং টমেটোর দরের উপর। সেটা পুজোর সময় থেকেই হতে পারে। গরমের শুরুতে পিঁয়াজ ৩০ টাকা প্রতি কেজি হওয়ার পর থেকে আর দাম বাড়েনি। বাংলার পিঁয়াজের স্টক কমে গেলেও এসে গিয়েছিল নাসিকের পিঁয়াজ। ফলে সমস্যা হয়নি।

কিন্তু সময় এগোলে নাসিকের পিঁয়াজের স্টক শেষ হলে তারপরে শীতকালে বাংলার পিঁয়াজ না আসা পর্যন্ত পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে বলেন, “আমাদের রাজ্যে যে সবজি আসে তা বেশিরভাগই ৬ চাকা থেকে দশ চাকার ট্রাকে আসে। তাই কুড়ি চাকার ট্রাক নিষিদ্ধ করা খগুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তবে পিঁয়াজ বা টমেটো ২০ চাকা বা তার বেশি চাকার ট্রাকে আসে। নাসিকের পিঁয়াজ শেষ হলে তার একটা প্রভাব পড়তে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তবে সেটা অনেক দূরের বিষয়। এখন থেকেই চিন্তিত হবার কিছু নেই।” পাশাপাশি টমেটোরও একই অবস্থা হতে পারে।

কমলবাবু বলেন, “ট্রাক ওভারলোডিংয়ের বেশি প্রবণতা আছে মধ্য ও পূর্ব ভারতে। অন্ধ্রে অর্থাৎ দক্ষিণ ভারতে এই সমস্যা নেই। ওরা একটু কম লোড করে পাঠাবে কিন্তু বেশি লোড দেবে না।”

ব্রিজ ভাঙার চিন্তায় ২০ চাকার ট্রাক আটকালেও খাদ্যের বাজারদর ঠিক থাকতে পারে। কিন্তু জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। এ থেকে বাঁচার রাস্তা নেই বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ও ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমে যাওয়াকেই এই দামবৃদ্ধির কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় জানা নেই।

দিনের শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওভাবে রেহাই দিলেও মোদী ‘এফেক্ট’ যে কোনওভাবেই বাঁচাতে পারবে না তা পরিস্কার। আম জনতার হেঁশেল বন্ধ হওয়া জোগাড় আসন্ন।

Advertisement
---